তৃণমূলিকে টিকা দিয়ে জয় শ্রীরাম, কানে কোপ বিজেপি কর্মীর

136

জলপাইগুড়ি: তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর কপালে টিকা দিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাদ্রিকুঠি এলাকায় ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রায় ১৫০ জন মিলে পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাদ্রিকুঠি এলাকায় বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায়। তৃণমূলিদের হামলায় সুভাষ রায় নামে এক বিজেপি কর্মীর কানে ধারালো অস্ত্রের কোপ পড়ে। তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজেপির আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। পরে বিজেপির তরফে তৃণমূলের বারোপাটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কৃষ্ণ দাস, প্রধান হেমব্রম (পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান) সহ তৃণমূলের ১০ জনের নামে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তৃণমূলের ১০ জনের পাশাপাশি বিজেপির ২ জনকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, অন্যান্য জায়গার মতো এদিন পাদ্রিকুঠি এলাকাতেও হোলি খেলা চলছিল। আর পাঁচজনের পাশাপাশি সুভাষবাবুও হোলির আনন্দে মেতেছিলেন। অভিযোগ, তিনি তাঁরই এক আত্মীয় কপালে আবিরের টিকা দিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেন। তাঁর ওই আত্মীয় ঘটনাচক্রে তৃণমূল করেন। অভিযোগ, এরপরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রায় ১৫০ জন তৃণমূলি সন্ধ্যায় পাদ্রিকুঠিতে বিজেপির পার্টি অফিসে অতর্কিতে হানাদারি চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ, পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মমতা রায়ের স্বামী নীরোধ রায়ের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। হামলা চালানোর সময় সুভাষবাবুকে বেছে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপ মারা হয়। এর জেরে তাঁর কানের অনেকটাই কেটে যায়। মাথার পিছন দিকটা কেটে গিয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোতোয়ালি থানার আইসি, ডিএসপি (ক্রাইম) বিশাল পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাফ নিয়ে এলাকায় উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এলাকায় ব্যাপক টহলদারি শুরু করে। পরে বিজেপির তরফে কৃষ্ণ দাস, প্রধান হেমব্রম, নীরোধ রায়ের পাশাপাশি সুভাষ দাস, সঞ্জীব দাস, অভিজিত্ দাস, সজেন দাস, লচ্ছিব দাস, স্পর্ধা মুন্ডাদের মতো তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নামে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
বিজেপি নেতা শ্যাম প্রসাদ বলেন, ‘পাদ্রিকুঠি এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন পুরোপুরিভাবে ভেঙে গিয়েছে। দলের প্রায় সবাই আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন। এতেই ওদের মাথাখারাপ হয়ে গিয়েছে। আমাদের কর্মীরা নিজেদের উদ্যোগে টাকা জোগাড় করে পাদ্রিকুঠি এলাকায় দলীয় অফিস তৈরি করেছিলেন। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী হামলা চালিয়ে এদিন ওই অফিস ভেঙে দেয়। ’ শ্যাম প্রসাদের অভিযোগ, ‘হামলার ঘটনায় আমাদের কর্মী সুভাষ রায় গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সংকটজনক। পাশাপাশি, আমাদের আরও দুজন কর্মী জখম হয়েছেন।’
বিজেপির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে তৃণমূল উড়িয়ে দিয়েছে। দলের জলপাইগুড়ির মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ জানান, এই অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই। অভিযুক্ত কৃষ্ণ দাসের বক্তব্য, ‘আমি এদিন এলাকাতেই উপস্থিত ছিলাম না। বলা ভালো, বাড়ি থেকেই বেরই হইনি। তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও মানেই হয় না। বিজেপির কর্মীরা এদিন ওই এলাকায় হোলি খেলছিলেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোলের জেরেই এদিনের ঘটনাটি ঘটে যায়।’