জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : দলীয় ব্যানারে সরকারি প্রকল্পের কর্মসূচি করল ইংরেজবাজার পুরসভা। হাউজিং ফর অল এই সরকারি প্রকল্পের অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যানারে তৃণমূলের দলীয় স্লোগান বাংলার গর্ব মমতা লেখাকে ঘিরে সোমবার বিতর্কের ঝড় উঠল। ভোটের মুখে সরকারি কর্মসূচিকে দলীয় মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বাম-কংগ্রেস ও গেরুয়া শিবির। এনিয়ে ইংরেজবাজারের উপপুরপ্রধান দুলাল ওরফে বাবলা সরকারের বক্তব্য, এটা আমাদের ভুল নয়, যাঁরা ব্যানার তৈরি করেছেন তাঁদের ভুল। সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিষয়টি নেতিবাচকভাবে না নিয়ে বৃহত্তর মানুষের স্বার্থের দিকটাই আমাদের ভাবা উচিত।

সোমবার মালদা কলেজের সানাউল্লাহ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি প্রকল্প হাউজিং ফর অল কর্মসূচির অনুষ্ঠান। ইংরেজবাজার পুরসভার ২৯টি ওয়ার্ডের ৮১৯ জন উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং গৃহ নির্মাণের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা হয়। উপস্থিত ছিলেন পুরপ্রধান নীহাররঞ্জন ঘোষ, উপপুরপ্রধান বাবলা সরকার, কাউন্সিলার পরিতোষ চৌধুরী সহ পুর আধিকারিকেরা। নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, আমরা ইংরেজবাজার পুরসভার প্রায় ১৬ হাজার পরিবারকে বাড়ি তৈরি করে দেব। এনিয়ে পুরসভার পক্ষে রাজ্য পুরনগরোন্নয়ন দপ্তরকে চিঠি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২,২০০ পরিবার সবার জন্য বাড়ি প্রকল্পের গৃহ পেয়েছেন। তৃতীয় পর্যায়ে আরও ২,৮০০টি বাড়ি দেওয়া হবে। এই ভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাব। এই প্রকল্পে সরকার দেবে ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা এবং উপভোক্তাদের ব্যাংকে জমা করতে হবে ২৫ হাজার টাকা। মোট ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকায় বাড়ি তৈরি হবে। এদিন ২৯টি ওয়ার্ডের ৮১৯ জন উপভোক্তাকে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করানোর পাশাপাশি কাজ তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ, তৃতীয় পর্যায়ে কাজ সম্পন্ন হলেই তবেই চতুর্থ পর্যায়ে টাকা সরকার দেবে।

- Advertisement -

এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যানারে তৃণমূলের দলীয় স্লোগান বাংলার গর্ব মমতা লেখাকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। কারণ, সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে দলীয় স্লোগান লেখা যায় না। বিষয়টিকে উপপুরপ্রধান এড়িয়ে গেলেও এনিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলি। উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এ প্রসঙ্গে বলেন, তৃণমূল এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এখন সরকারি কর্মসূচিগুলোকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে মানুষের মন পাওয়ার চেষ্টা করছে। আসলে তৃণমূল দলের কি আছে যে জনগণকে জানাবে। তাদের আছে নিজেদের মধ্যে মারপিট, দাঙ্গা, কাটমানি, বিভিন্ন খাদান থেকে তোলা আদায়, এছাড়া আর কি আছে। তাছাড়া ওরা তো ভোটে বিশ্বাস করে না! ওরা ভোট লুটে বিশ্বাসী। কাটমানি ছাড়া তো কোনও কাজ হয় না। জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক অম্বর মৈত্র বলেন, এমন ঘটনা ইতিপূর্বেও ঘটেছে। সরকারি কর্মসূচি আর দলের কর্মসূচি এই দুটোর মধ্যে এরা কোনও ফারাক করতে পারে না। কোনটা দল আর কোনটা সরকার। এই বোধবুদ্ধিটুকুও ওদের হয়নি। আর যারা বোঝে না এমন লোকেরাই তৃণমূলের নেতা। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এগুলির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত। এরা ৫ বছর কিছু করল না, এখন নির্বাচনের মুখে এরা এইসব কাজ করছে।

জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ভুপেন্দ্রনাথ হালদার বলেন, এটা নতুন কোনও ঘটনা নয়, এটা তো তৃণমূলের কালচার। সরকারি কর্মসূচি হল ওদের দলীয় কর্মসূচি। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী যখন সরকারি খরচে প্রশাসনিক সভা করেন তখন কিন্তু শুধুমাত্র দলীয় বিধায়ক, নেতাদের আমন্ত্রণ করা হয়। বিরোধীদের ডাকা হয় না। সরকারি কর্মসূচিতে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয় না। এই কালচার তো ওপর থেকেই নীচে এসেছে। ওরা সরকারি খরচেই দলীয় কর্মসূচি করে থাকে। আমার কাছে নিন্দার ভাষা নেই। আমরা পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি, লোকে যারে ভালো বলে ভালো সেই হয়, নিজেকে যারা ভালো বলে ভালো সেই নয়। মানুষের কাছে এই বিষয়গুলি কংগ্রেস তুলে ধরবে।