ফের তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত ঘিরে উত্তপ্ত আউসগ্রাম ও রায়না 

96

বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে রাজনৈতিক সংঘর্ষ। সোমবার ফের তৃণমূল ও বিজেপির সংঘাত ঘিরে উত্তপ্ত হল জেলার আউসগ্রাম। রায়না বিধানসভার বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নাকাল হল পুলিশ। আউসগ্রামে আহত হয়েছেন কয়েকজন বিজেপি কর্মী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আউসগ্রামে বিজেপির নির্বাচনি প্রচার মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। আউসগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝির সমর্থনে এদিন পিচকুড়ি গ্রামে মিছিল বের হয়।

বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি বলেন, ‘পুলিশের অনুমতি নিয়ে তাঁদের প্রচার মিছিলের উপরে লাঠি, বাঁশ, রড হাতে নিয়ে হামলা চালায় তৃণমূল কর্মীরা। বেপরোয়া হামলায় তিন বিজেপি কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চিকিৎসার জন্য তিন বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় গুসকরা হাসপাতালে। বিজেপির প্রচারে সাধারণ মানষের অংশগ্রহণ বাড়ছে দেখে তৃণমূল এদিন পরিকল্পনা করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছে।’ পুলিশের উপস্থিতিতে তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপির প্রচার মিছিলে আক্রমণ চালিয়েছে বলে কলিতা মাঝির অভিযোগ।

- Advertisement -

আউসগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সালেক রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ মিথ্যা। পালটা অভিযোগে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলে মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি প্রার্থী মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে।’

অন্যদিকে, গত শনিবারের পর ফের এদিন উত্তপ্ত হয় রায়না বিধানসভার দেনো গ্রাম। তৃণমূলের তরফে পুলিশ পরিকল্পনা মাফিক বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হেনস্তা করছে। এলাকায় ঢুকে পুলিশ বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির কর্মীরা। যদিও বিক্ষোভকারীদের হঠানোর জন্য পুলিশ সেভাবে ময়দানে না নামায় আশান্তি বাড়েনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার দেনো গ্রামে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শম্পা ধাড়া সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা কর্মী। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, তীর-ধনুক নিয়ে ওই গ্রামের বিজেপি কর্মীরা প্রার্থী সহ দলের কর্মীদের উপরে হামলা চালায়। অভিযোগের ভিত্তিতে মাধবডিহি থানার পুলিশ পাঁচ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

এদিন পুলিশের উপর ক্ষোভ উগরে দেয় বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় রায়না বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী মানিক রায়। মানিকবাবু বলেন, ‘ভোটের সময় তৃণমূলের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে কাজ করছে পুলিশ। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মানিক রায় মন্তব্য করেন। রায়নার তৃণমূল নেতা শেখ কলিমউদ্দিন ওরফে বাপ্পা জানান, বিজেপি নেতারা রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের সঙ্গে পেরে না উঠে প্রচার মিছিলে হামলা চালাচ্ছে।