তুফানগঞ্জ, ২৭ নভেম্বরঃ তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল নাটাবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলাপেটা গ্রাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ ও র‍্যাফ। উদ্ধার হয়েছে একটি তাজা বোমাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ঘটনায় আহত এক শিশু সহ ১৬জন। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার নাটাবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯ জন পঞ্চায়েত সদস্য তুফানগঞ্জ থানায় পৌঁছান।

গতকাল রাত প্রায় ১০টা নাগাদ বিজেপির অঞ্চল সভাপতি নিমাইচন্দ্র দাসের বাড়িতে বোমা মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিজেপি কর্মীরা ভেলাপেটা এলাকায় একত্রিত হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অঞ্জনা দাস ও সুধীর দাসের বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুঠ চলে। এক্ষেত্রে অভিযোগের তীর ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র‍্যাফ। জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ঘটনায় এক শিশু সহ আহত হয় ১৬ জন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একটি তাজা বোমা। এই ঘটনায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ওসমান আলি মণ্ডল জানান, গতকাল রাতে বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পনা মাফিক আমাদের দুই কর্মীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার পাশাপাশি লুট করা হয় কর্মীদের বাড়িতে। আমরা বিষয়টি নিয়ে তুফানগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করব। রাতে বিজেপি কর্মীরা নিজেদের বাড়িতে বোমা ছুড়ে আমাদের নাম দিচ্ছে। ঘটনায় আমাদের কোনো কর্মী যুক্ত নয়। অন্যদিকে, বিজেপির অঞ্চল সভাপতি নিমাই চন্দ্র দাস জানান, রাত সারে দশটা নাগাদ আমার বাড়িতে বোমা ছোঁড়ে তৃণমূল কর্মীরা। ঘটনায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ পৌঁছায় প্রায় এক ঘন্টা পর। পুলিশ এসেই আমাদের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় আমাদের কর্মীরা আহত হন। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংসদ সভা নিয়ে গোষ্ঠিকোন্দল শুরু হয়েছে। যে কারণেই তাদের বাড়ি ভাংচুর হয়েছে। এই ঘটনায় আমাদের কোনো কর্মী জড়িত নেই। বাড়িতে বোমা মারার বিষয়টি নিয়ে আমরা তুফানগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানাব। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এদিন নাটাবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯ জন পঞ্চায়েত সদস্য তুফানগঞ্জ থানায় পৌঁছান। তাঁরা বলেন, আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নাটাবাড়ি এলাকায় শান্তি ফেরাতে তুফানগঞ্জ থানার ওসি রাহুল তালুকদারের সঙ্গে দেখা করব। যতক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করা হবে ততক্ষণ আমরা থানাতেই থাকব।’ তুফানগঞ্জ থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল রাতে ভেলাপেটা এলাকায় লাঠিচার্জ করা হয়। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আপাতত এলাকা শান্ত রয়েছে।