ভাওয়াইয়ার সুরে তৃণমূল প্রার্থীর প্রচার ময়নার

102

মাদারিহাট: তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। দলনেত্রীও বটে। আবার তিনি শিল্পীও। তিনি নিজেই লেখেন ভাওয়াইয়া গান। সুরও দেন গানে। সেই গান তিনি গেয়ে বেড়াচ্ছেন দলের একের পর এক পথসভায়। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন হাটে বাজারে ইদানিং তৃণমূলের পথসভাগুলিতে জমজমাট ভিড় হচ্ছে। পথসভার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা নিয়তি রায় ওরফে ময়না। পদমতি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ময়নাদেবী এখন মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রাজেশ লাকড়ার সমর্থনে ভোটের প্রচারে ভীষণ ব্যস্ত। তাঁর সহযোগী বাদ্যযন্ত্র শিল্পী বংশীবাদক সৌমেন রায়, দোতারা বাদক বাবলু বর্মন, ঢোলক বাদক জয়ন্ত রায়দের নিয়ে তিনি মাদারিহাটের বিভিন্ন পথসভায় প্রচারের পর বাড়ি ফিরছেন রাতে। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে ময়নাদেবী একজন সুবক্তাও বটে। তাঁর বক্তব্যে পথসভায় ঘনঘন হাততালি পড়ছে। কামতাপুরী ভাষাতেই একের পর এক পথসভায় ভাষণ দিয়ে চলেছেন তিনি।

আগাগোড়া কংগ্রেসী পরিবারের মেয়ে নিয়তি রায় ১৯৯৮ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েও হারতে হয় তাঁকে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পদমতি এলাকা থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ছোটোবেলা থেকে ভাওয়াইয়া শিল্পী সন্তোষ বর্মনের কাছে গানের তালিম নিতে থাকেন তিনি। পরে নিজেই গান লিখে সুর দেওয়া শুরু করেন। তাঁর লেখা গানে অন্যান্য বিষয়ের মতো স্থান পেয়েছে রাজনৈতিক বিষয়ও। তবে তৃণমূল নেত্রী হওয়ার সুবাদে তাঁর গানে তৃণমূলের প্রশংসাই বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেও গান লিখেছেন তিনি। গানের মাধ্যমে তিনি সমালোচনা করছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, অমিত শা’দের।

- Advertisement -

মাদারিহাটে শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের প্রচার তুঙ্গে উঠেছে। কখনও গান গাইছেন, কখনও নৃত্য করছেন তৃণমূলের প্রার্থী রাজেশ লাকড়া ওরফে টাইগার। এদিকে এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছে টানতে ভাওয়াইয়া গানকেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তৃণমূল। তাই ময়নাগুড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে নিয়তিদেবীকে। বৃহস্পতিবার শিশুবাড়ি হাটে নিয়তিদেবীর গান শুনে ভিড় জমে যায়। রবিবার খয়েরবাড়ির বর্মনপাড়া, রাঙ্গালিবাজনা, সোমবার শালহা মন্ডল চৌপথিতে দলের পথসভায় গান শোনান তিনি। একের পর এক গান শোনানোর পাশাপাশি তিনি কামতাপুরী ভাষায় বক্তব্যে যেন আগুন ঝরান। পথসভাগুলি থেকে তিনি একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে।

তৃণমূলের খয়েরবাড়ি অঞ্চল কমিটির সভাপতি জবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভাওয়াইয়া গান উত্তরবঙ্গের মাটির গান। উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্রদের প্রাণের ভাষার গান। স্বাভাবিকভাবেই গানের মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরায় পথসভাগুলি আরও আকর্ষণীয় হচ্ছে।’ নিয়তিদেবী বলেন, ‘আমি দলের একজন কর্মী। তাই দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছুটে এসেছি। এছাড়া আমি গান গাইতে ভালবাসি। তাই দলের কাজও করা হচ্ছে গানও গাওয়া হচ্ছে।’ তবে বিজেপির মাদারিহাট বিধানসভার কো-কনভেনার লক্ষ্মীনাথ রায় বলেন, ‘তৃণমূলের পথসভায় এখন আর লোক হয় না। তাই ভাওয়াইয়া গান শুনিয়ে লোক টানার চেষ্টা করছেন ওঁরা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন বিজেপির সরকার চায়। তাই গান শুনলেও মানুষ তৃণমূলকে আর ভোট দেবে না।’