ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, প্রচারে অন্য এক গৌতম

70

শিলিগুড়ি : পান থেকে চুন খসলেই যিনি মেজাজ ধরে রাখতে পারেন না, সেই গৌতম দেবই এখন সবসময় ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল। তাঁর মেজাজ ধরে রাখতে না পারার কথা কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দলের নীচুতলার কর্মী, সকলেরই জানা। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সেই গৌতমবাবুই এখন সবসময় ঠান্ডা মেজাজে থাকায় সকলেই তাঁকে দেখে অবাক হচ্ছেন। প্রচারে বেরিয়ে হাতজোড় করে তিনি যেমন মানুষের আশীর্বাদ চাইছেন, ঠিক তেমনভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে হাসিমুখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গৌতম প্রচারের দিক থেকে বিজেপি কিংবা বাম প্রার্থীর থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। ভোট যতই এগিয়ে আসছে প্রচারে তিনি ততই জোর দিচ্ছেন। প্রচারের ক্ষেত্রে রুটিন তৈরি করে নিয়েছেন। সকালে বাড়ি থেকে চা, আমন্ড ও কাঁচা মুগ খেয়ে বের হয়ে যান। এরপরই পৌঁছে যান নিজের নির্বাচনি এলাকায়। প্রচারের মাঝে বাচ্চাদের হাতে চকোলেট তুলে দেন। পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদের হাত মাথায় নেন। সম্প্রতি এমনও হয়েছে, এক ব্যক্তি গৌতম দেবের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এমনকি অসৌজন্য ব্যবহারও করেন। পরে গৌতম দেব তাঁর হাতে চকোলেট তুলে দেন।

- Advertisement -

প্রথম পর্বের প্রচার সেরে কোনও দলীয় কর্মীর বাড়িতেই দুপুরের খাবার খাচ্ছেন পর্যটনমন্ত্রী। তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ছেন প্রচারে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা আসনে লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ৮৪ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন গৌতমবাবু। তাই প্রচারে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না তিনি। কখনও দলের শিক্ষক সংগঠনের মঞ্চে আবার কখনও ক্রিকেট ম্যাচের উদ্বোধনে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের এই পোড়খাওয়া নেতাকে।

গৌতম দেব বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নিজের এলাকায় প্রচার শুরু করেছি। তিন-চারদিনের মধ্যে গোটা বিধানসভা এলাকায় প্রচার পুরোপুরিভাবে শেষ হয়ে যাবে। তারপর রিভিশন প্রচার শুরু হবে। এখনও পর্যন্ত নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রচার করছি। সারাদিনে অন্ততপক্ষে ১৪ ঘণ্টা প্রচারের জন্য সময় বের করে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি। মানুষ ভালো সাড়া দিচ্ছে।