বর্ধমান, ১৭ জুনঃ রবিবার রাতে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে রণক্ষেত্র চেহারা নিল গলসি ১ ব্লকের রামপুর এলাকা। সংঘর্ষে জখম হয়েছেন ৫ জন। তাঁদের পুরসা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। জখমদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন নিয়ে বৈঠক চলাকালিন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ বাঁধে, যা পরে সংঘর্ষের রূপ নেয়। আক্রান্তের পরিবারের লোকেদের দাবি, তাঁরা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এই বিষয়ে পঞ্চায়েত সদস্যের অভিযোগ, ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি পার্থসারথি মণ্ডলের গোষ্ঠীর লোকজন ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন গোষ্ঠীর লোকজনের উপর চড়াও হয়। তারা বোমা মারতে মারতে এলাকায় প্রবেশ করে। সামনে যাকে পায় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কোঁপ মারতে শুরু করে। ঘটনায় ব্লক তৃণমূল সভাপতি জাকির হোসেন গোষ্ঠির চারজন জখম হন। পালটা মারে জখম হন ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি পার্থসারথি গোষ্ঠির অপর এক ব্যক্তি। এই বিষয়ে পার্থসারথি মন্ডল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিতভাবে রবিবার রাতের ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে। পার্থবাবুর দাবি, গতকাল রামপুর এলাকায় বিজেপির লোকজনই তাঁদের দলের লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে, গলসি ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি জাকির হোসেন গোষ্ঠী কোন্দলের কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এর পিছনে বিজেপিরও মদত রয়েছে। গলসির বাসিন্দা জেলা বিজেপি সম্পাদক বিমান রায় বলেন, রামপুরের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ জড়িত নয়। তৃণমূলের নেতারা নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আড়াল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির নাম জড়িয়ে দিচ্ছে।