চাঁচলে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে জখম ৯

691

সামসী: তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল চাঁচল। বুধবার রাত আটটা নাগাদ চাঁচল বাস স্ট্যান্ডের ঘটনা। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের মোট ৯ জন জখম হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, চাঁচলের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও জেলা পরিষদ সদস্য সামিউল ইসলাম গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

সূত্রের খবর, এদিনের সংঘর্ষের সূত্রপাত অনার্স পাইয়ে দেওয়া এবং পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর এক তৃণমূল নেতা। বিপক্ষ গোষ্ঠীর এমন অভিযোগকে ঘিরে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাকযুদ্ধ, হুমকি, পাল্টা-হুমকি শুরু হয়। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ার সেই কোন্দল লোকমুখে চাউর হতেই বাস্তবে সংঘর্ষ শুরু হয়। রক্ত ঝরে চাঁচলের রাজপথে। বুধবার সন্ধ্যার পর চাঁচলের প্রাণকেন্দ্র নেতাজি মোড়ে ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দু‘তরফের নয় জন। মাথা ফেটেছে দুই নেতার। সংঘর্ষের সময় দুই গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা দফায় দফায় একে অন্যের উপরে লাঠিসোটা, ইট নিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগ। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইটের আঘাতে মাথা ফেটেছে চাঁচল ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতির ছেলে আবু সুফিয়ান ও প্রশান্ত দাস নামে আর এক যুব নেতার।

- Advertisement -

বিপক্ষ গোষ্ঠীর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় পরিকল্পনা করে তাঁরা হামলা চালিয়েছে। যদিও জেলা পরিষদ নেতার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। পাশাপাশি প্রাক্তন এক ছাত্র পরিষদ(কংগ্রেস)নেতা বিপক্ষ গোষ্ঠীকে মদত দিয়েছে বলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশে অভিযোগ জানানো হচ্ছে বলে দু’পক্ষই দাবি করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, চাঁচল কলেজের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর এক নেতা এক তৃণমূল কর্মীর কাছ থেকে পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন বিপক্ষগোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা। কিন্তু কাজ না হওয়ায় টাকা চাইতে গেলে তা দেওয়া হয়নি। উল্টে নথিপত্র ফেরত পেতে আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। এমন অভিযোগকে ঘিরে ফেসবুকে দুই গোষ্ঠীর বাকযুদ্ধ চলছিল কয়েকদিন ধরেই। তরপরেই বুধবার সন্ধেয় প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা।

চাঁচল-১ ব্লক টিএমসিপির কার্য়করী সভাপতি মোকাদ্দেম হোসেন ওরফে বাবু সরকার বলেন, ওরা জেলা পরিষদ সদস্য সামিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ। আমাদের এক নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তীহীন। প্রমাণ করলে রাজনীতি ছেড়ে দেব বলে মন্তব্য করেন বাবু সরকার। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের এক নেতা আঞ্জারুল হক জনি ঘটনাস্থলে থেকে ওদের মদত দিয়েছেন।

আঞ্জারুল হক জনি বলেন, ওখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এখন রাজনীতির সঙ্গে জড়িতও নই। কি হয়েছিল, আমার ভূমিকা কি ছিল পুলিশও দেখেছে। দু’পক্ষের আহতদের আমিই হাসপাতালে নিয়ে গিয়িছিলাম। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আড়াল করতে আমাকে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে।

যদিও সাবির আলি নামে এক তৃণমূল কর্মী বলেন, আমি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সমাজবিদ্যায় ফেল করেছিলাম। পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর এক নেতা। কিন্তু কাজ হয়নি। এখন নথি চাইতে গেলে তাও দেওয়া হচ্ছে না।

বিপক্ষ গোষ্ঠীর এক নেতা মিজানুর ইসলাম বলেন, প্রতিবাদ করায় আমাদের উপরে হামলা করা হয়েছে। দু’জনকে ইট দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।

জেলা পরিষদ সদস্য সামিউল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে টাকা নেওয়ার মন্তব্যকে ঘিরে ঘটনাটি ঘটেছে। দু’পক্ষই তৃণমূলের। টাকা নেওয়ার অভিযোগ কতটা সত্যি জানি না। তবে, এমনটা কাম্য নয়। বিষয়টি দলের জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নূরকে জানানো হয়েছে।

তৃণমূল জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, চাঁচলে গন্ডগোলের কথা শুনেছি। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। অনৈতিক কাজ করে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা বলাটা এখন রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে। অন্য কেউ নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব করাচ্ছে কি না সেটা দেখছি। পাশাপাশি তৃণমূলের কেউ অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, দুপুর পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে খতিয় দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।