বিজেপিকে বিঁধতে পুরোনো প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের অস্ত্র

95

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা :  যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যা ২ থেকে বাড়িয়ে বিজেপি ১৮ করেছিল, তা দিয়ে আবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মসনদ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, প্রচারে এসে একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। আর তাই সেই প্রতিশ্রুতিগুলিকেই ভাঁওতাবাজি বলে তৃণমূল রাজ্যজুড়ে প্রচারে নামছে। তৃণমূলের আইটি সেল এই নিয়ে দুটি নির্বাচনের ভাষণকে পাশাপাশি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ও বুথ স্তরে স্লাইড শোয়ের মাধ্যমে প্রচার শুরু করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যের সর্বত্র বিজেপির এই দিল্লি কা লাড্ডু প্রচারে দলের নেতাদের নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে তৃণমূল এই নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। শনিবারই প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টিম দুই বছরের দুটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে কোলাজ তৈরি করে রাজ্যের সর্বত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। তৃণমূল ওই ভিডিও ফুটেজই সর্বত্র প্রচারে আনবে।

রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে অমিত শা রাজবংশী রেজিমেন্ট তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবারও তিনি একই কথা ঘোষণা করলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই রেজিমেন্টের জন্য বাজেটে অর্থ সংস্থান থাকত। কিন্তু তা নেই। ফলে এটা যে কেন্দ্রীয় সরকারের ললিপপ দেখানো, তা স্পষ্ট। তাছাড়া ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মূর্তি তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অথচ ৭ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় থেকেও সংসদে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার একটি ছবিও বিজেপি সরকার রাখেনি। তাই রাজবংশীদের নিয়ে বিজেপি ভোটের রাজনীতি করতে চাইছে। তৃণমূলের নমশূদ্র সেলের রাজ্য সভাপতি মুকুল বৈরাগ্য বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে ভোটের রাজনীতি করছে। এখন বলছে, করোনা টিকাকরণ শেষ হলে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হবে। এই আইন কার্যকর করতে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার প্রয়োজন হয় না। অমিত শা, নরেন্দ্র মোদির সদিচ্ছা থাকলে অনেক আগেই তা কার্যকর করা যেত। আসলে তা করলে তো এবার বিধানসভা ভোটে মতুয়া বা নমশূদ্রদের নিয়ে রাজনীতি করতে পারত না বিজেপি। এই দাবি অবশ্য মানতে চাননি বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেন, রাজবংশীদের জন্য রাজ্য সরকার বাস্তবে কিছুই করেনি। কেন্দ্রীয় সরকারই বরং তাদের কথা চিন্তা করছে। রাজবংশী ও মতুয়া সম্প্রদায় বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে। এবারের বিধানসভা ভোটেও তা প্রতিফলিত হবে।

- Advertisement -

তৃণমূল সূত্রে খবর, রাজবংশী ও মতুয়াদের নিয়ে অমিত শা ও প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালের  লোকসভা ভোটে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এবারও অমিত শা কোচবিহার ও ঠাকুরনগরে গিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে কোলাজ তৈরি করা হয়েছে। ওই কোলাজ সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি বুথে বুথে, প্রতিটি রাজনৈতিক সভায় দেখানো হবে। একইসঙ্গে ভয়েসওভার হিসেবে বিজেপির ভাঁওতাবাজি নিয়ে প্রচার চালানো হবে। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথে এখন থেকেই এই ফুটেজ প্রচারে আনা হবে। এছাড়াও যে কোনও দলের রাজনৈতিক সভার আগে এই ফুটেজ সংবলিত কোলাজের ভিডিও এলসিডি স্ক্রিনে দেখানো হবে। বিজেপি নেতারা যে একই প্রতিশ্রুতি বারবার দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন, তা প্রমাণে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাইছে তৃণমূল।

তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন, উত্তরবঙ্গে রাজবংশী, আদিবাসী ও নমশূদ্র ভোট তৃণমূলের পক্ষে গেলেই লক্ষ্যমাত্রার আসন দখল সম্ভব হবে। তাই বিজেপি নেতাদের ভাষণকেই হাতিয়ার করতে চাইছে তারা। শুক্রবার সন্ধের মধ্যেই সমস্ত কোলাজ তৈরি করে জেলায় জেলায় পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ততই এই ভিডিও ফুটেজের প্রচার ব্যাপকভাবে ছড়ানোর জন্য বুস্ট করা হবে। তৃণমূল নেতাদের ধারণা, এভাবেই রাজবংশী, মতুয়া ও আদিবাসী সম্প্রদায়ে মন জয় করা সম্ভব হবে।