তৃণমূল-কংগ্রেস সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত লক্ষ্মীপুর, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ব্যবসায়ীদের

342

চোপড়া: চোপড়া থানার লক্ষীপুর বাজার এলাকায় তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এদিন সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ প্রতিবাদে বাজার এলাকায় সাময়িক রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় এলাকায় সংঘর্ষ উত্তেজনার জেরে ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এলাকার ব্যবসায়ীদের। বিভিন্ন সময় ঘটনার জেরে তাণ্ডব চালানো হচ্ছে দোকানেও। এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন তাঁরা সরব হন।

- Advertisement -

চোপড়া থানার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিন নতুন করে কোনও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যবসায়ী রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় পুলিশি টহলদারি চলছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল-কংগ্রেস সংঘর্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়ায় চোপড়া থানার লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকায়। ঘটনায় এক স্কুল ছাত্র সহ তিনজন জখম হন। ঘটনায় দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বোমা ও গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতভর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসে তৃণমূলের প্রধানকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ধৃতরা গতকাল ছাড়া পান। লক্ষ্মীপুর বাজারে কংগ্রেস কর্মীরা এদিন তাঁদের বরণ করে বাজারের এক পাশে আলোচনায় অংশ নেন। অপরপ্রান্তে তৃণমূল কর্মীরা আলোচনায় বসেন। সেইসময় দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তে এলাকা রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। ইট-পাথর ছোঁড়ার পাশাপাশি বোমা-গুলিও চলেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল নেতা তথা চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন বলেন, ‘কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা বাজার এলাকায় বিজয় মিছিল বের করেন। সেই সময় তৃণমূলের দুই কর্মী-সমর্থককে মারধর করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় দলের ২ জন জখম হয়েছেন। এছাড়া আব্দুল করিম নামে দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্র জখম হয়েছে।’ তৃণমূলের দাবি, গুলির আঘাতে জখম হয়েছে ওই ছাত্র। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার ইসলামপুর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে দলের কয়েকজন বাড়িতে এসেছেন। তাঁরা বাজার এলাকায় পৌঁছাতেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বোমা-গুলি ছোঁড়ে, ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।’

চোপড়া থানার আইসি বিনোদ গজমের বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।’ গুলি চলেছে কি না এপ্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্ব থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেই রয়েছে লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ইতিমধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার জেরে গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ কর্ম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গতকালের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়তে শুরু করেছে। চোপড়া থানার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গতকালের সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।