‘টুম্পা সোনা’-কে আঁকড়ে বামেদের দেওয়াল লিখন, কটাক্ষ ‘খেলা হবে’-র প্রবক্তা তৃণমূলের

128

বর্ধমান: দোরগোড়ায় এই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রাক্কালে বঙ্গ রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ এখন মাতোয়ারা ‘খেলা হবে’ আর ‘টুম্পা সোনা’ গানের প্যারোডিতে। যদিও একদা বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনের শ্লোগান ছিল ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব’। কিন্তু এখন বিপ্লবের ভাবধারা শিকেয় তুলে ‘টুম্পা শোনায়’ মেতেছে বাম ছাত্র সংগঠন ‘এসএফআই’ ও যুব সংগঠন ‘ডিওয়াইএফআই’। তাই ব্রিগেড সভার প্রচার ও দেওয়াল লিখনে ‘টুম্পা সোনাই’ এখন বামেদের ’আইকন’। অন্যদিকে ’মা মাটি মানুষের গান ছেড়ে তৃণমূলও এবার বেছে নিয়েছে ‘খেলা হবে’ শ্লোগান। আর সেই শ্লোগানকে পাথেয় করে তৈরি হওয়া গানই এখন বাজছে তৃণমূলের মিটিং মিছিলে। ভোটাররা অবশ্য বলছেন, শুধু গান শুনিয়ে ভোলানো যাবে না তাঁদের মন।

আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সভার ডাক দিয়েছে বামেরা। সেই সভা নিয়ে জেলায় জেলায় জোর কদমে চলছে প্রচার। নজিরবিহীনভাবে এই প্রথম বামেদের ব্রিগেড সভার প্রচারের হাতিয়ার ‘টুম্পা সোনা’ গানের প্যারোডি। ব্রিগেড সভা নিয়ে দেওয়াল লিখনেও ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সেই ‘টুম্পা সোনাকে‘। ব্রিগেড সভার সমর্থনে বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার
শুড়েকালনা এলাকায় দেওয়াল লিখতে দেখা গেল সিপিআইএম কর্মীদের। শিল্পী হাতের তুলির টানে বামকর্মীরা দেওয়ালে ‘টুম্পা সোনার’ ছবি আঁকলেন। ব্রিগেভ সভায় যোগদানের বার্তাও লিখলেন। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে তরুণ তরুণী একে অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ওই তরুণী হাতে ধরে আছে কাস্তে হাতুড়ি প্রতিক আঁকে লাল পতাকা। বামেদের অভিনব দেওয়াল লিখন সাড়া ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পাশাপাশি তুঙ্গে উঠেছে শাসক ও বিরোধীদের রাজনৈতিক তর্জা।

- Advertisement -

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র কয়েক দিন আগে জামালপুর সফরে গিয়ে বলেছিলেন, ‘তাঁদের টুম্পা সোনা গানের বিষয়বস্তুটাই মূল কথা। কোনও বিষয়বস্তুকে বুঝতে একটি গান যদি সাহায্য করে তবে তাতে কোন অসুবিধা নেই।’

যদিও সূর্যকান্ত বাবুর এই বক্তব্য কটাক্ষ করেছে জামালপুর ব্লকের তৃণমূল নেতৃারা। ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি ভূতনাথ মালিক বলেন, ‘বামেরা এখন মনে হয় বিপ্লবের পথ ত্যাগ করেছে। ‘কৃষক শ্রমিক ঐক্য জিন্দাবাদ’, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ এইসব শ্লোগান ভুলে গিয়ে এখন বামেরা ‘টুম্পা সোনাকে’ আঁকড়ে যুব সমাজকে কাছে পেতে চাইছে। এটা সত্যি অবাক কার মতো বিষয়।’ ভূতনাথ বাবু আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ উন্নয়ন দেখে তৃণমূলকে ভোট দেবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে তৃণমূল সরকার যে উন্নয়ন করেছে সেই উন্নয়নের ‘খেলা’-কে সামনে রেখেই তৃণমূল এগিয়ে চলেছে। তাই ‘খেলা হবে’ শ্লোগান ও গানের মূর্ছনায় মাতোয়ারা হচ্ছে বাংলার মানুষ।’

বিজেপি নেতারা অবশ্য বাম ও তৃণমূল দুই পক্ষের যুক্তিকেই খারিজ করে দিয়েছে। জামালপুর বিধানসভার বিজেপি আহ্বায়ক জিতেন ডকাল বলেন, ‘বাংলার সংস্কৃতি আজ বিপন্ন। একদা বামপন্থীরা সুস্থ সংস্কৃতির কথা বলতেন। তাঁরা গনসংগীত রচনা করতেন, গাইতেনও। বামেরা সেই সব লাটে তুলে দিয়ে এখন ‘টুম্পা সোনা’ গান গাইছে । তাঁদের দেওয়াল লিখনেও জায়গা করেনিচ্ছে ’টুম্পা সোনা’।এর থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে বামেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা । আর দশ বছর ধরে যারা ‘খেলা’ আর ‘মেলা’ করেই রাজ্যের কোষাগার ফাঁকা করেছে তারাই ‘খেলা হবে ’গান গাইছে ।জিতেন বাবু দাবি করেন, আশলে বাম ও তৃণমূল দুই পক্ষই বাংলায় অপসংস্কৃতীর মেল বন্ধন ঘটাচ্ছে। “