স্থানীয়দের নিয়ে হাতি ঠেকাও বাহিনী গড়ার দাবি তৃণমূলের

189

রাঙ্গালিবাজনা: হাতির হানা রুখতে ব্যর্থ বন দপ্তরের কর্মীরা। এই অভিযোগ তুলে বন দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের দলগাঁও রেঞ্জারকে স্মারকলিপি দিল তৃণমূল। এই প্রসঙ্গে বুধবার তৃণমূলের বীরপাড়া ২ নম্বর অঞ্চল কমিটির তরফে জানানো হয়, স্থানীয়রাই হাতির হানা রোখার দ্বায়িত্ব নিতে চান। তাই তাঁদের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হোক। অঞ্চল সভাপতি বিষ্ণু ‌‌ঘাতানির বক্তব্য, যেভাবে হাতির হানায় একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তাতে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকার মানুষের পক্ষে বসবাস করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত দুই বছরে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে হাতির হানায় কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই চা বাগানের বাসিন্দা। গত ১৭ জুন বীরপাড়ার দলমোর চা বাগানে এবং ১৯ জুন বীরপাড়ার জয়বীরপাড়া চা বাগানে হাতির হানায় দু’জনের মৃত্যু হয়। জয়বীরপাড়া চা বাগানের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ব্রিজেড ওরাওঁ ঘটনার পর স্থানীয় যুবকদের নিয়ে বন দপ্তরের মাধ্যমে হাতি ঠেকাও বাহিনী গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন। এদিন দলমোর চা বাগানের এরকম বাহিনী তৈরির দাবি নিয়ে বন দপ্তরের দ্বারস্থ হলেন স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা। দলগাঁওয়ের রেঞ্জার দোরজি শেরপা জানান, সীমিত সংখ্যক কর্মী নিয়েই হাতির হানা রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বনকর্মীরা। তবে, একইসঙ্গে একাধিক জায়গায় হাতি হানা দিলে সমস্যা হচ্ছে। তবে দাবিগুলি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে রয়েছে ২০টি চা বাগান। ওই ব্লকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের একাংশের পাশাপাশি খয়েরবাড়ি, ধূমচী, রেতি, দলমোর, বান্দাপানি, লঙ্কাপাড়ার মতো বনাঞ্চলগুলিও রয়েছে। এক বন থেকে বেরিয়ে আরেক বনে হামেশাই যাতায়াত করে হাতির পাল। হাতি চলাচলের করিডরগুলির একটা বড় অংশ চা বাগানগুলির ভেতর দিয়ে রয়েছে। ফলে চা বাগানে হাতির হানা রোজনামচায় পরিণত হয়েছে। এদিকে হাতির সংখ্যাবৃদ্ধির অনুপাতে বনের পরিধি না বাড়ায় নানাভাবে হাতি চলাচলের করিডরগুলিতে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় কখনও খাদ্যের সন্ধানে, কখনও করিডরে বাধা পেয়ে লোকালয়ে হাতি হানা দিচ্ছে বলে জানান বন দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী।