নেতাজি সংক্রান্ত তথ্য ও বই প্রকাশের দাবি তৃণমূলের

164

কলকাতা: নেতাজি সংক্রান্ত তথ্য ও ঐতিহাসিক প্রতুল গুপ্তের নেতৃত্বে নেতাজি সংক্রান্ত যে বই লেখা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তা প্রকাশের দাবি জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সেখানে তিনি জানান, এব্যাপারে তিনি মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে ফের চিঠি পাঠিয়েছেন।

সুখেন্দুশেখরবাবু বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০১৫ সালে রাজ্য সরকারের কাছে থাকা নেতাজি সংক্রান্ত ফাইলগুলি প্রকাশ্যে আনা হয়। আর গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটে ফায়দা লুটতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম দফায় ১০০টি পরে আরও দুই দফায় ১০০টি ফাইল জনসমক্ষে এনেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, তারা ৩৫০টি ফাইল প্রকাশ করেছে। যদিও তাতে সন্দেহ আছে। এব্যাপারে প্রকৃত তথ্য জানতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চার বছর আগেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফের চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

- Advertisement -

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইতিহাস বিভাগের তরফে ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত আজাদ হিন্দ বাহিনী ও নেতাজির ভূমিকা নিয়ে একটি বই লেখা হয়। যার মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন ঐতিহাসিক প্রতুল গুপ্ত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সেই বই আজও দিনের আলো দেখতে পায়নি। ২০০৯ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের এক সেনানী তথা হরিয়ানার এক বাসিন্দা তথ্য জানার অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বইটি চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় কেন্দ্র সরকার সে বই তাঁকে দেয়নি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ২০১০ সালে সুপ্রিমকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ চারমাসের মধ্যে বই প্রকাশের নির্দেশ দিলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সিঙ্গল বেঞ্চ ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আজও সেই মামলা ঝুলে রয়েছে। মামলার দ্রুত শুনানির জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা তাঁর মন্ত্রীসভা কোনও তৎপরতা দেখায়নি।’

রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের দাবি, বই প্রকাশের জন্য একসময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের কাছ থেকে অনুমতি চায়। বিদেশমন্ত্রক নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও দেয়। তার পরও বই প্রকাশ হয়নি। তিনি জানতে পেরেছেন, ওই বইয়ের ১৮৬ থেকে ১৯১ পাতায় এমন কিছু তথ্য রয়েছে যাতে প্রমাণ হয়, তাইহোকু বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি মারা যাননি। তিনি সশরীরে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। ওই বইয়ের পাশাপাশি নেতাজি সংক্রান্ত যে সমস্ত ফাইল কেন্দ্রের বিভিন্ন দপ্তরে জমা রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখরবাবু।

অন্যদিকে, এদিন তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন সিএবির প্রাক্তন সচিব বিশ্বরূপ দে সহ অন্যরা। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন সুখেন্দুবাবু।