রাঙ্গালিবাজনা : জনসংযোগ বাড়াতে আলিপুরদুয়ারে আক্ষরিক অর্থেই মাঠে নেমেছেন তৃণমূলের নেতারা। তাঁরা চাইছেন, নীচুতলার ভোটারদের মন ফেরাতে। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির প্রচারে নেমে শুধু বাড়িতে নয়, কৃষিজমিতে গিয়ে কাজ করা  চাষিদের সঙ্গে কথা বলছেন তাঁরা। এমনকি, তাঁদের ধানখেতের আগাছা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন তৃণমূলের কৃষক সংগঠনের নেতারা, আলিপুরদুয়ার জেলায় এখন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে। আবার, গ্রামে আসা নেতাদের সামনে পেয়ে কেউ কেউ এমন অভিযোগ  তুলছেন যে অস্বস্তিতে পড়তেও হচ্ছে কৃষক নেতাদের।

মঙ্গলবার থেকে আলিপুরদুয়ার  জেলাজুড়ে ‘দিদিকে বলো’  কর্মসূচিকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়াতে পথে নেমেছেন কিষাণ খেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের শিশুবাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার থেকে ওই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছি আমরা। তাঁদের বলছি,  দলের কোনো নেতা,  কর্মীই হন আর সরকারি আধিকারিক হন, কারও কাজে কোনো আপত্তি থাকলে সরাসরি আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান।’

গত লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলাতেও জোর ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল তৃণমূল। আলিপুরদুয়ারের লোকসভা আসন হাতছাড়া হয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্যের শাসকদল। দলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের  জন্মলগ্ন থেকে জড়িত জেলার অন্যতম পরিচিত মুখ মৃদুল গোস্বামীকে। দলের কৃষক সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়ও তৃণমূলের সঙ্গে গোড়া  থেকেই জড়িত। এবার সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে পথে নেমেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের চর্চা, দলের দুর্দিনে দলের পুরোনো মুখদের পথে নামিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সংগঠন মেরামতের চেষ্টা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ।

মঙ্গলবার মাদারিহাটের রাঙ্গালিবাজনা, খয়েরবাড়ি, আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শালকুমারহাট সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়  গ্রামে গ্রামে ঘোরেন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের শালকুমারহাটে ধানখেতে গিয়ে  কাজ করা কৃষকদের সমস্যা ও দাবির কথা শোনেন  আলিপুরদুয়ার ১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হরিপ্রসাদ রায়,  তৃণমূলের কৃষক সংগঠনের শালকুমার-২ অঞ্চল কমিটির সভাপতি মঙ্গলচন্দ্র রায়। ওই এলাকার কৃষকরা অভিযোগ তোলেন, মরশুমি শাক সবজির ন্যায্য দাম পান না তাঁরা। অথচ, বছরের অন্যান্য সময় ওই শাক সবজিগুলির দাম থাকে আকাশছোঁয়া । এলাকায় বহুমুখী হিমঘর তৈরি করা দরকার। অথচ, বহুমুখী হিমঘর তৈরির জন্য শিলান্যাস হলেও কাজ হয়নি।

বুধবার ফালাকাটার উমাচরণপুরের অনেক বাসিন্দাই অভিযোগ তোলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ত্রিপলটাও জোটে না বরাতে। উমাচরণপুরের অনেকের বাড়িতেই আজ পর্যন্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। পানীয় জলের জন্য তাঁরা প্রতিবেশীদের কুয়ো, নলকূপের ওপর নির্ভর করেন। কালচিনির পাটকাপাড়া এলাকার কৃষকরা অভিযোগ তোলেন, সময়মতো চাষিরা ধানবীজ পাননি। আলিপুরদুয়ার ২ নং ব্লকের পারোকাটা, কুমারগ্রামের বারবিশা সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জনসংযোগ কর্মসূচি চলে বুধবারও। কাজ করেও মাসের পর মাস পারিশ্রমিক মিলছে না এমন অভিযোগ মেলে অনেক জায়গাতেই ।

প্রসেনজিৎবাবু বলেন, ‘ভোট নয়, সাধারণ মানুষের দাবি, অভাব অভিযোগের কথা শুনতেই আমরা গ্রামে গ্রামে যাচ্ছি। মানুষের দাবি, অভিযোগ নিয়ে পর্যালোচনা করে দলের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের দাবি, অভিযোগ আমাদের দলনেত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

ছবি – ধানখেতের আগাছা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন তৃণমূলের কৃষক সংগঠনের নেতারা।

তথ্য ও ছবি – মোস্তাক মোরশেদ হোসেন