তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনা হরিশ্চন্দ্রপুরে

284

হরিশ্চন্দ্রপুর: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের বরাদ্দ টাকায় রাস্তার কাজের কাটমানির অভিযোগ। ঘটনায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর লোককে থানার সামনে ভিড় জমাতে দেখা যায়।

অভিযোগ, কাটমানি না পেয়ে জেলা পরিষদ সদস্যার স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আমিনুল হক, তার ছেলে ও ঠিকাদারের লোকজনকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জুবেদা বিবির দেওর দলবল নিয়ে তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

পাল্টা অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে রাস্তায় আটকে গাড়ি ভাঙচুর করে মারধর করা হয়। ঘটনায় আহত সভাপতি জুবেদা বিবিকে হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশাতলা থেকে কুমেদপুর পর্য়ন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য আট কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। গতকাল ঠিকাদারকে নিয়ে তাঁর থাকার বন্দোবস্ত করতে এলাকায় গিয়েছিলেন জেলা পরিষদ সদস্যা মমতাজ বেগমের স্বামী আমিনুল হক। সেখানে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী আসরাফুল হক কমিশন দিতে হবে বলে দাবি করেন বলে অভিযোগ। রাজি না হওয়ায় আমিনুল, তাঁর ছেলে ও ঠিকাদারকে আটকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার পর বিকেলে ব্লক অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আসরাফুলের স্ত্রী জুবেদা বিবি। সেখানে রাস্তায় গাড়ি আটকে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গাড়ি ঘুরিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন জুবেদা। সেখানে বাড়িতে ঢুকে আমিনুল দলবল নিয়ে জুবেদা ও তাঁর সঙ্গে থাকা দিদিকে মারধর করেন। ভাঙচুর করা হয় সরকারি গাড়িও।

এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদ সদস্যার স্বামী আমিনুল হক বলেন, ‘সভাপতির স্বামী ওই কাজের জন্য কমিশন চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা সম্ভব নয় জানাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের একটি ক্লাবে আটকে রেখে মারধর করা হয়। আমি পুলিশে অভিযোগ করায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিকল্পনা করে নিজেরাই গাড়ি ভাঙচুর করে।’ যুব নেতা আসরাফুল অবশ্য কমিশন চাওয়ার অভিযোগকে অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ওই রাস্তা তাঁর জন্য হয়েছে বলে প্রচার করায় স্থানীয়দের সঙ্গে আমিনুলের বচসা হয়।

হরিশ্চন্দ্রপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জুবেদা বিবি বলেন, ‘বাড়ি ফেরার সময় গুলির শব্দ শুনে আমরা পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিই। একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাকে মারতে তাড়া করা হয়। শ্বাসরোধ করে খুনেরও চেষ্টা করা হয় আমাকে।’

এদিকে দলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদকে ঘিরে অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল সভানেত্রী মৌসম নুর বলেন, গতকাল হরিশ্চন্দ্রপুরে কি হয়েছে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এই প্রসঙ্গে চাঁচল মহকুমার এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘দুই পক্ষই অভিযোগ করেছে। গুলি চালানোর বিষয়টি আমাদের জানা নেই। ঘটনার তদন্ত চলছে।’