কোচবিহার, ২২ মার্চ ঃ কোচবিহারের তিন শহরে বিজেপির লিড ভাবাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের অধীন কোচবিহার, দিনহাটা ও মাথাভাঙ্গা। এই তিনটি পুর এলাকাতেই ২০১৬ সালের লোকসভা উপনির্বাচনে সিংহভাগ ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তিনটি পুরসভা দখলে থাকলেও তৃণমূলের পক্ষে বিজেপিকে আটকানো সম্ভব হয়নি। এই তিন শহরের এক লক্ষের উপর ভোট এবারের নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সহসভাপতি আবদুল জলিল আহমেদ মনে করেন, মানুষ উন্নযন দেখে তাঁদের পাশেই রয়েছে।

২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছিল। এই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায চার লক্ষের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেবার কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের অধীন জেলার তিনটি শহরে বিজেপির ভোট বেড়েছিল উল্লেখযোগ্যভাবে।

কোচবিহার  পুরসভায় ২০টি  ওয়ার্ড রয়েছে। আর এই ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডেই বিজেপি ২০১৬ সালের লোকসভা উপনির্বাচনে এগিয়ে ছিল। মাথাভাঙ্গা পুরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে নয়টিতে লিড ছিল বিজেপি প্রার্থীর। দিনহাটা পুর এলাকাতেও ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে একাধিক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল। সবমিলিয়ে তিনটি পুরসভায় এক লক্ষের উপর ভোট রয়েছে। শহর অঞ্চলে এই বিরোধিতা ভাবাচ্ছে রাজ্যের শাসকদলকে। গত কয়েকটি ভোটে কোচবিহারে বিজেপির ভোট যে হারে বেড়েছে তাতে শহর এলাকার ভোট এবার শহরতলিতেও ছাপ ফেললে নির্বাচনে শাসকদলের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।  বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজেপির ভোট আরও বাড়বে। কারণ, পানীয জল থেকে শুরু করে ন্যূনতম সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা। তাই শহরের মানুষ এবার বিজেপির পাশেই রয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সহসভাপতি আবদুল জলিল আহমেদ বলেন, শহরের মানুষ রাজ্য সরকারের উন্নযন দেখে ভোট দেবেন। আমাদের ভোট এবার বাড়বে। কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, শহরগুলিতে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে তা দেখেই মানুষ আমাদের ভোট দেবেন।