মাদারিহাটে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে 

287

রাঙ্গালিবাজনা: দলের অঞ্চল সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সভাপতিদের মনোনীত করার ৪৮ ঘন্টা যেতে না যেতেই আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এল। পরিস্থিতি এমনই যে, রাঙ্গালিবাজনার অঞ্চল সভাপতি শম্ভু দাস রবিবার শিশুবাড়ির দলীয় কার্যালয়ে রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের ১৩ জন সদস্যকে পরিচিতির জন্য উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানালেও ১৩ জনের মধ্যে বেশিরভাগই উপস্থিত হননি। এমনকি, রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রীণা শৈব কার্জিও নয়া অঞ্চল সভাপতির আহ্বানে সাড়া দেননি। অবশ্য, অঞ্চল সভাপতি শম্ভু দাস বলেন, ‘কোনো ক্ষোভ বা কোন্দলের বিষয় নেই। হয়তো বৃষ্টির জন্য তাঁরা উপস্থিত হতে পারেননি। তবে জেলা পরিষদের সদস্যা ও পঞ্চায়েতের সমিতির তিনজন সদস্যই উপস্থিত হয়েছেন।’ এদিকে, দলের মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক সভাপতি সঞ্জীব দত্ত বলেন, ‘এটা গোষ্ঠী কোন্দল নয়, মান অভিমানের ব্যাপার।’

প্রসঙ্গত, রাঙ্গালিবাজনায় আবুল কালাম আজাদের জায়গায় শম্ভু দাসকে সভাপতি করার পর থেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। মূলত, নীচুতলার কর্মীদের মতামত না নিয়েই অঞ্চল সভাপতি মনোনীত করায় দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা। রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রীণা শৈব কার্জি বলেন, ‘সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সভাপতিদের মনোনয়নে আমাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের তো মূল্য নেই। তাই আমরা বিকল্প চিন্তাভাবনা করছি।’ গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্য বানু বেগম বলেন, ‘দলে তো আমাদের কোনো সম্মানই নেই।’

- Advertisement -

একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খয়েরবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকাতেও। ইউসুফ আলির জায়গায় জবাইদুল ইসলাম সভাপতি হচ্ছেন জেনে শুক্রবার মাদারিহাটের বৈঠকে হাজির হননি বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীরা। খয়েরবাড়ির ১৪/৮৩-৮৪ নম্বর পার্টে শনিবার ও ১৪/৮১-৮২ নম্বর পার্টে রবিবার নয়া অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে সভা করেন তৃৃণমূল কর্মীরা। খয়েরবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রদীপ সূত্রধর বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চল সভাপতিকে মানি না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী ও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন। তাঁকে সভাপতি করার আগে দল আমাদের মতামত নেয়নি।’ যদিও অভিযোগ উড়িয়ে খয়েরবাড়ির নয়া অঞ্চল সভাপতি জবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখব।’

কিষাণ ক্ষেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি জয়প্রকাশ রায় বলেন, ‘মাদারিহাটের অঞ্চলগুলির পদাধিকারীদের মনোনয়ন সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতিতে করা হয়েছে। কর্মী এমনকি শাখা সংগঠনগুলির কোনও মতামত নেওয়া হয়নি। কোনও সম্মেলন তো দূরের কথা, দলীয় কার্যালয়ের বদলে হোটেলে বসে পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করেছে ব্লক নের্তৃত্ব। স্বাভাবিকভাবেই, কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’

তৃণমূলের মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক সভাপতি সঞ্জীব দত্ত বলেন, ‘ক্ষোভ থাকতেই পারে। এটা বড় ব্যাপার নয়। যাঁরা মনোনীত হননি, তাঁদের জন্যও সম্মানজনক পদের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’