শুভেন্দুকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিকল্প ভাবনা দলে

1904

কলকাতা : রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে রীতিমতো নাস্তানাবুদ তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে নানা সূত্র ধরে শুভেন্দুর সঙ্গে সরাসরি বা ঘুরপথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে শুভেন্দু শেষমেশ দলত্যাগ করলে তাঁর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর দখলে থাকা পদগুলিতে কে কে বসবেন, তাও চূড়ান্ত করা হয়ে গিয়েছে। এদিকে, শুভেন্দু বেসুরো গাইলেও তাঁরা যে দলনেত্রীর সঙ্গেই রয়েছেন, সেবিষয়ে নিশ্চিত বার্তা দিতে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদাধিকারী ছাড়াও বেশ কয়েকজন বিধায়ক কালীঘাটে গিয়ে দলনেত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরির গড়ে বিশাল সভা করবেন শুভেন্দু। কাঁথি মহকুমার বেশ কয়েকটি সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান তিনি। তাই সমবায় সপ্তাহ উপলক্ষ্যে ওই সভা ডাকা হয়েছে। শুভেন্দু আগেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, ওই সভায় তিনি অনেক কিছু বলবেন। আসলে অখিলবাবু বরাবরই অধিকারী পরিবারের বিপক্ষে। শুভেন্দুর বেসুরে গাওয়া নিয়ে সম্প্রতি তিনি বারবার তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছেন। তাই এদিন শুভেন্দু মুখ খুলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবারও তমলুকে তিনি সমবায় সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি স্বজন-পোষণ থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত সমবায় গড়ার কথা বলেন। তাঁর দাবি, আমি নমিনেটেড নই, আমি ইলেক্টেড। আপনাদের পাশে সেবক শুভেন্দু অধিকারী ছিল, আছে, থাকবে।

ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের সরকারি নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অনুগামীদের ওপর কড়া নজর রাখছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি শুভেন্দুকে সতর্ক করা হয়েছে বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর। কিন্তু শেষ চেষ্টা হিসেবে শুভেন্দুর সঙ্গে বসে তাঁর ক্ষোভ কাটানোর চেষ্টায় মাঠে নেমেছেন কয়েকজন শীর্ষ তৃণমূল নেতা। সোমবার নিউটাউনে এক রাজ্যসভার সদস্যর সঙ্গে শুভেন্দুর কথা হয়েছে বলে একটি মহল দাবি করেছে। কিন্তু তিনি নাম না করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন অভিষেক ও পিকে এই জুটিকে তাঁর দখলে থাকা এলাকায় তিনি নাক গলাতে দেবেন না। কারণ সরাসরি দল পরিচালনায় বর্তমান জুটির কর্মপদ্ধতি নিয়ে তীব্র ক্ষুব্ধ। তিনি বলেছেন, যখন দলনেত্রী নিজে দল চালাতেন বা সুব্রত বক্সি দল পরিচালনা করতেন, তখন কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এই জুটি যেভাবে চালাচ্ছে তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। এবার শেষ চেষ্টা হিসেবে সুব্রত বক্সি তাঁর মানভঞ্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর শর্ত দলের পক্ষে মানা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তবুও দলীয় মুখপাত্ররা সুর নরমই রেখেছেন।

- Advertisement -

এদিন দলের মুখপাত্র সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, আমি এটুকুই বলতে পারি শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটির সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। শুভেন্দু চাইছেন, উনি যে সমস্ত জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, সেখানে তাঁর হাতেই দলের রাশ থাকবে। প্রার্থীও তিনিই ঠিক করবেন। ওই জুটি কোনওভাবেই সেখানে মাথা গলাতে পারবে না। উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় জুটিকে ঘেঁষতেই দিতে চান না তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির দিকে ঝুঁকতে হয়েছে তৃণমূলকে। পরিবহণ ও সেচ দপ্তরের বিকল্প নাম ইতিমধ্যেই ভেবে রাখা হয়েছে।

যেসব উন্নয়ন পর্ষদ ও সরকারি সংস্থার মাথা হিসেবে শুভেন্দু আছেন, সেগুলির বিকল্প হিসেবেও নাম ভেবে রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাংগঠনিক দিক থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরের নেতাদের তুলে আনার চিন্তাভাবনা চলছে। এর মধ্যেই দলনেত্রীকে ভরসা দিতে কালীঘাটে বড়সড়ো দল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া ও অজিত মাইতি। দুই মেদিনীপুরের জেলা ও শাখা সংগঠনগুলির পদাধিকারীদের পাশাপাশি খড়্গপুরের (গ্রামীণ) বিধায়ক দীনেন রায়, নারায়ণগড়ের প্রদ্যোত ঘোষ, গড়বেতার আশিস চক্রবর্তী, দাঁতনের বিক্রম প্রধান ও খড়্গপুরের (সদর) বিধায়ক প্রদীপ সরকার সেই দলে ছিলেন। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা ও এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, রাজনীতিকরা কখনও পেশাদারদের অধীনে কাজ করতে চায় না। সমাজকর্মীরা কোনও চাপের কাছে মাথা নত করে কাজ করে না।