কোচবিহারে তিনটি আসনে পিছিয়ে তৃণমূল, রিপোর্ট দুই সংস্থার

610
ফাইল ছবি

গৌরহরি দাস, কোচবিহার: শুধু আইপ্যাকের রিপোর্টে ভরসা নয়। বিধানসভা ভোটের আগে গোটা রাজ্যে দলের হাল বুঝতে আরও দুটি সর্বভারতীয় সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। অত্যন্ত নামী ওই দুটি সংস্থা এবং আইপ্যাকের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কথা বলার পর বিধানসভা ভোটের প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত করবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুই নামী সংস্থা ও আইপ্যাকের সমীক্ষায় কোচবিহারে নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি আসনে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সূত্রে খবর, এই কেন্দ্র তিনটি হচ্ছে তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা ও কোচবিহার (উত্তর) বিধানসভা কেন্দ্র। সমীক্ষায় বাকি ছয়টি কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও সেগুলির মধ্যে দু-একটি কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রেও এবার বিধায়কদের মার্কশিট তৈরি করছে তৃণমূল। তাতে যাঁরা উত্তীর্ণ হবেন দল সেই বিধায়কদেরই টিকিট দেবে। এখনও পর্যন্ত সেই হিসাবে কোচবিহারে দলের সাত বিধায়কের মধ্যে দু-একজনের টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, দু-একটি কেন্দ্রে প্রার্থী রদবদল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

- Advertisement -

গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারের পাশাপাশি রাজ্যে ৪২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৮টি দখল করে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল একটি আসনেও জয় না পাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের। একইসঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে গোটা রাজ্যে বিজেপি যেভাবে তাদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে, পাশাপাশি দলের হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীরাও যেভাবে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তাতে মা-মাটি-মানুষের দলের চিন্তা আরও বেড়ে গিয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য দখলকে পাখির চোখ করেছে। ফলে গত দুবার বিধানসভা ভোটে জিতে সরকার গড়লেও তৃণমূল আর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন দলের নেতা-কর্মীরাও। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অবস্থায় শুধুমাত্র প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার উপর ভরসা না রেখে দলের রাজ্য নেতৃত্ব আরও দুটি সর্বভারতীয় সংস্থাকে দিয়ে গোটা রাজ্যের সমস্ত জেলায় গত কয়েকমাস ধরে সমীক্ষা চালাচ্ছেন। সেই সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের ২৩ মে-র পর থেকে কোচবিহার জেলায় বরাবরই বিজেপির থেকে তৃণমূল ১১ শতাংশ, ৯ শতাংশ না হলে ৫ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু এই প্রথম কোচবিহার জেলায় তৃণমূল ৪ শতাংশ ভোটে বিজেপির থেকে এগিয়ে রয়েছে। এতে নির্বাচনে ভালো ফলাফলের আশায় নতুন করে বুক বাঁধছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নির্বাচনে দলের ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে এবার বিধায়কদের মার্কশিট দেখে তাঁদের টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। বিধায়কদের পারফরমেন্স মাপার ক্ষেত্রে দল তিনটি প্যারামিটার ঠিক করেছে। প্রথম প্যারামিটারে বিচার করা হবে বিধায়কদের জনপ্রিয়তা অর্থাৎ বিধায়ক হিসাবে মানুষ তাঁকে কতটা পছন্দ করেন? মানুষের কাছে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা রয়েছে? মানুষ তাঁর কাজকর্মে কতটা খুশি? মানুষের আপদ-বিপদে বিধায়ক মানুষের পাশে থাকেন কি না ইত্যাদি নানা বিষয়। দ্বিতীয় প্যারামিটারে দেখা হবে, ২০১৯ সালের ২৩ মে-র পরে বিধায়ক রাস্তায় কতটা সময় ছিলেন? অর্থাৎ লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর তিনি দলের হয়ে রাস্তায় নেমে কতটা কাজ করেছেন? তৃতীয় প্যারামিটারে বিচার্য, কোভিড পরিস্থিতিতে বিধায়ক মানুষের পাশে কতটা ছিলেন?  সাধারণ মানুষ তাঁর কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছেন কি না, এমন নানা বিষয়। সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে দল বিধায়কের কাজে সন্তুষ্ট হলেই নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেবে, নচেৎ নয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, জেলায় নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রেই আমরা ভালো জায়গায় আছি। যেসব জায়গায় একটু-আধটু সমস্যা আছে আমরা সাংগঠনিকভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে সেগুলিকে মেকআপ করে নেব। পিকের টিম ছাড়াও তৃণমূল দুটি সর্বভারতীয় সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করানোর বিষয়ে পার্থপ্রতিমবাবু বলেন, দল এখন অনেক বিজ্ঞানভিত্তিক পথে কাজ করছে। দলের সাংগঠনিক বিষয় রয়েছে। আমাদের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দলের আরও বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা হচ্ছে। বাইরের বিভিন্ন সংস্থাও সমীক্ষা করছে। কিছুদিন আগে সি ভোটার-এর সমীক্ষায় তো কিছুটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এছাড়া আমরা মানুষের উপর ভরসা রাখি। আমরা একশো শতাংশ নিশ্চিত যে, কোচবিহারে নয়টির মধ্যে নয়টি আসনেই আমরা জিতব। সমীক্ষায় মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রটিতে পিছিয়ে থাকা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ২০১১ ও ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রটিতে তৃণমূল হারবে। কিন্তু ফলাফলে দেখা গিয়েছে, মাথাভাঙ্গায় তৃণমূল বিপুল ভোটে জিতেছে। তাই কোন সমীক্ষায় কে কী বলছেন আমি জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের জয় একশো শতাংশ নিশ্চিত। তুফানগঞ্জের বিধায়ক ফজল করিম মিয়াঁ বলেন, কোন সমীক্ষায় কী বলছে, তা জানি না। অন্য কোন বিধানসভায় কী ফল হবে, সেটাও আমি জানি না। তবে তুফানগঞ্জে তৃণমূল অবশ্যই জিতবে।