তৃণমূল ক্ষমতায় এলে স্বশাসিত পরিষদ, আশা কেপিপি নেতার

65

রাজগঞ্জ: আলাদা রাজ্যের দাবি ছেড়ে স্বশাসিত পরিষদ পেলে খুশি কামতাপুর প্রগ্রেসিভ পার্টি (কেপিপি)। সেই আশায় এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট দেবে কেপিপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, বাংলা ভাগ হতে দেবেন না। পাহাড়েও একই কথা বলেছেন তিনি। ফলে উত্তরবঙ্গকে যে আলাদা কামতাপুর রাজ্য করবেন না তা বুঝে গিয়েছেন কেপিপি নেতৃত্ব। তাই নাকের বদলে নুরুণ পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চাইছেন তাঁরা। রবিবার রাজগঞ্জের ফুটকিপাড়ায় যৌথ সভা করে কেপিপি ও তৃণমূল।

রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী খগেশ্বর রায়ের সঙ্গে যৌথসভা করে কেপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অতুল রায় বলেন, ‘আমাদের আলাদা রাজ্যের দাবি হয়তো পূরণ হবে না। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় এলে স্বশাসিত পরিষদ হতে পারে। তাই তৃণমূলের হয়ে আমরা লড়ছি।’ এদিন মূলত তৃণমূল ও কেপিপি কর্মীদের মধ্যে সেতুবন্ধন করার জন্য ওই যৌথ সভা করা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেপিপি কেন্দ্রীয়ভাবে তৃণমূলকে সমর্থন করলেও বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার প্রার্থী গৌতম দেব এবং রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী খগেশ্বর রায়কে মানতে চাননি কেপিপি কর্মীদের একাংশ। ওই দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁরা আলাদা প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে বিষয়টি কেপিপির শীর্ষ নেতৃত্ব অতুল রায়কে জানানো হয়। তিনি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে দলের ওই নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন। এতে ওই নেতারা আর সুর চড়াননি। তবে দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দেয় কামতাপুর ভূমিপুত্র মহাজোট। শেষ পর্যন্ত ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের মহাজোটের প্রার্থী রামপ্রসাদ মোদক মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন তপতী রায় (বর্মন)।

- Advertisement -

এদিন তৃণমূল ও কেপিপির যৌথ সভার পর অতুল রায় বলেন, ‘আমরা আগেই কেন্দ্রীয়ভাবে তৃণমূলকে সমর্থন করেছি। কিন্তু রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কোনও কারণে স্থানীয় কেপিপি নেতৃত্ব ও তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তাই বিভেদ ভুলে উভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার জন্য যৌথ সভা করা হয়।’ তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের জনজাতির অনেক দাবি পূরণ করেছে। পুনরায় তৃণমূল ক্ষমতায় এলে কামতাপুরি স্কুলগুলিতে এখানকার জনজাতির শিক্ষক নিয়োগ, মহাপুরুষ চিলা রায়ের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা সহ কামতাপুরের ইতিহাস পাঠ্য সিলেবাসে রাখার জন্য সরব হবেন। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন কেপিপির জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি বিমলচন্দ্র বর্মন, রাজগঞ্জ ব্লকের সভাপতি বিমল রায়, আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতা অনিল ওরাওঁ সহ ব্লকের তৃণমূল নেতারা।