বাম আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথা বিজেপির মুখে শুনব না: ব্রাত্য

135

কলকাতা: বামফ্রন্টের বিকল্প উন্নততর বামফ্রন্টের স্লোগানের মতোই গতকাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তৃণমূলের বিকল্প উন্নততর তৃণমূল। আর মুখ্যমন্ত্রীর সেই সুরে সুর মেলাতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতারা। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র ব্রাত্য বসু। আর সেখানেই তিনি জানান, বাম আন্দোলনের একটা ঐতিহ্য আছে। যদিও তাদের আমলে প্রশাসনিক গাফিলতি ছিল। তবে বাম আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথা তারা বিজেপির মুখ থেকে শুনতে চান না। সায়েন্টিফিক রিগিং নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেটি কোন আমলে চালু হয়েছিল সেটা কারোরই অজানা নয়।’ তবে বিজেপির রথযাত্রা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বিজেপি নেতা ও কর্মীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

সেই সঙ্গে তিনি জানান, বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে রাজ্যের মানুষ সতর্ক। তাঁর মতে ওই মিছিলে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের কথা বলবে। তারা যে সেই কাজ করবে না তা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে বিজেপির রথযাত্রা নিম্নবর্গের মানুষের যে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেটা কারোর অজানা নয়।’

- Advertisement -

এদিকে, এদিন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন অভিনেতা দীপঙ্কর দে, ভরত কল, অভিনেত্রী শাওনা খান, লাভলি মিত্র। আর তাদের দলে যোগদান করিয়ে ব্রাত্যবাবু বিজেপিকে একহাত নিতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘বিজেপিতে যাঁরা যোগদান করছেন তাঁরা কেউই দলের রাজ্য নেতৃত্বে হাত থেকে পতাকা নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করছেন না। সবাই যোগদান করছেন দিল্লির নেতৃত্বের হাত ধরে।’ তাঁর মতে, স্থানীয় নেতাদের কাউকে দলে যোগদান করানোর কোনও যোগ্যতা নেই। এ ব্যাপারে দলের রাজ্য নেতৃত্বে প্রতিবাদ করা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, বিজেপি দলটাই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হয় দিল্লি থেকে। তাই দলে যোগদান করানোর জন্য রাজ্য নেতৃত্বকে পাত্তা না দিয়ে চার্টার্ড বিমান পাঠিয়ে দেওয়া হয় এ রাজ্যে।

অপরদিকে, কৃষক আন্দোলনের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাকে চিঠি দিয়ে তার ছেলেকে বোঝানোর আবেদন জানানো হয়েছে। সে ব্যাপারে করা এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রাত্যবাবু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মাকে কৃষকরা চিঠি দিয়েছেন সেটা ঠিক কাজই করেছেন। তিনি নিজেও সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রীর মাকে চিঠি দিয়ে বলবেন ছেলেকে বোঝানোর জন্য।’

সম্প্রতি রাজ্যপালের করা মন্তব্য নিয়ে ব্রাত্যবাবু জানান, রাজ্যপাল এতদিন ধরে যে বেআইনি এবং অসাংবিধানিক কাজকর্ম করে এসেছেন তা থেকে সরে আসছেন। তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের দুয়ারে সরকার কর্মসূচিকে ব্যঙ্গ করে বিজেপির তরফে যেভাবে বলা হচ্ছে যে, দুয়ারে সরকার হল আসলে ‘যমের দুয়ারে’ সরকার। সে ব্যাপারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ২.৭০ কোটি মানুষ ওই দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। আর বিজেপির নেতারা কি মানুষকে যমের সঙ্গে তুলনা করছেন বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, সেকারণেই বিজেপি মুখোশ সাধারণ মানুষের কাছে খুলে গিয়েছে বলেও জানান তিনি।