মঙ্গলকোটে শুটআউট, নিহত তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি

130

বর্ধমান: তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। মৃতের নাম অসীম দাস। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের সিওর গ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি মঙ্গলকোটের তৃণমূলের লাখুরিয়া অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বাড়ির কাছে সিওর মোড়ে দুষ্কৃতীরা অসীমবাবুর বাইক দাঁড় করিয়ে একদম কাছ থেকে গুলি চালায়। তিনি রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা অসীমবাবুকে উদ্ধার করে মঙ্গলকোট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী সহ অন্য তৃণমূল নেতারা মঙ্গলকোট হাসপাতালে যান। জেলা পুলিশের কর্তারাও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয় ও তৃণমূল সূত্রের খবর, এদিন সন্ধ্যায় কাশেমনগর বাজার থেকে বাইকে সিওর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন অসীম দাস। সিওর মোড়ের কাছে দাদা বলে ডেকে দুষ্কৃতীরা তাঁর বাইক দাঁড় করায়। দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে অসীমবাবুকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাকে ঘিরে এদিন সিওর গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে, তৃণমূল নেতা খুনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী। একই অভিযোগ দলের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডুর। তিনি বলেন, ‘ভোটে পরাজয়ের বদলা নিতে
মঙ্গলকোটের বিজেপি কর্মীরা এখন সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে।’

মঙ্গলকোট বিধানসভার পর্যবেক্ষক তথা তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল জানিয়েছেন, অসীম দাস দক্ষ সংগঠক ছিলেন। বিজেপির লোকজনই পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করেছে। মৃতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বুধবার মঙ্গলকোট যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনুব্রত।

যদিও বিজেপির বর্ধমান পূর্ব (গ্রামীণ) জেলা কমিটির সহ সভাপতি অনীল দত্তর পালটা দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই খুনের ঘটনা ঘটেছে। তা ধাপাচাপা দিতেই তৃণমূল নেতারা বিজেপির দিকে আঙুল তুলছেন। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হবে।