ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের

164

বর্ধমান: ভোটের মুখে তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন তৃণমূলেরই নেতা-জনপ্রতিনিধিরা। শুধু বিদ্রোহ ঘোষণা নয়, ব্লক সভাপতিকে পদ থেকে সরানোর দাবি তুলে ধরলেন রায়না-২ পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লকের পঞ্চায়েতগুলির শীর্ষকর্তারা। তাঁদের হুশিয়ারি, দল তাঁদের দাবিকে মান্যতা না দিলে মঙ্গলবার সরকারি পদ থেকে গন ইস্তফা দেবেন তাঁরা। রবিবার এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল শিবিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে দলের জনপ্রতিনিধি ও কার্যকর্তারা এমন বিদ্রোহী হয়ে ওঠায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনার পিছনে কোনও চক্রান্ত রয়েছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন।

তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে রায়না-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন আনসার আলি। মাস তিনেক আগে তাঁকে ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে কাইতির শ্রীরামপুর নিবাসী অসীম পালকে ব্লক তৃণমূলের সভাপতি করে দল। আনসার আলি বর্তমানে রায়না-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, অসীম পালকে সভাপতি করার পর থেকে বেঁকে বসেন পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সৈয়দ কলিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পা সহ ব্লকের অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও ব্লক কমিটির সিংহভাগ সদস্যরা।

- Advertisement -

আলমপুরের তৃণমূল কার্যালয়ে এদিন অসীম পালের বিরোধীরা সাংবাদিক বৈঠক করে পাইটা-১ অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি তথা উপপ্রধান রামচন্দ্র পাল বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। তা সত্ত্বেও ব্লক সভাপতির কাছে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। সেইজন্য তিনি অপমানিত ও ব্যাথিত হয়েছেন। তাঁরা সবাই মিলে তৃণমূল প্রার্থী শম্পা ধারাকে জেতানোর কাজ করবেন। তবে ব্লক তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে অসীম পালকে সরাতে হবে। নয়তো সরকারী জনপ্রতিনিধির পদ থেকে তাঁরা সকলে গণ ইস্তফা দেবেন।’

অসীম পালকে কাইতি অঞ্চলের ’হেরো’ নেতা বলেও এদিন কটাক্ষ করেছেন বিদ্রোহীরা। সৈয়দ কলিমুদ্দিন বলেন, ‘ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রধান-উপপ্রধানকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, অপমান করছেন। আর মানুষ ব্যাতিরেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দল চালাচ্ছেন। এমন সভাপতিকে মেনে নেওয়াটা সম্ভব হচ্ছে না।’

যদিও অসীম পাল স্পষ্ট জানান, ‘প্রার্থী শম্পা ধারার প্রচারে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখে সবাই বুঝতে পারছেন রায়নায় তৃণমূল প্রার্থী জিতছেই। যাঁরা এই সময়ে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন তাঁদের চলার পথ সম্পর্কে রায়নার মানুষ অবহিত রয়েছেন। বিদ্রোহীরা চক্রান্ত যা করার করুক। তার জন্যে ভোটে কোনও প্রভাব পড়বে না।’

তবে ব্লক তৃণমূলের সভাপতির বিরোধীদের সাংবাদিক বৈঠককে হালকা ভাবে নেন নি প্রার্থী শম্পা ধারা। তিনি এদিনই জেলা তৃণমূল সভাপতি স্বপন দেবনাথকে সবিস্তার রিপোর্ট করেন। প্রার্থী, প্রাক্তন বিধায়ক-সহ রায়না-২ ব্লকের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা মেটান হবে বলে স্বপন দেবনাথ প্রার্থীকে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

এপ্রসঙ্গে রায়না বিধানসভা বিজেপি আহ্বায়ক কৃষানু রায় বলেন, ‘খেলা হবে শ্লোগান যারা দিচ্ছিল তাঁরাই খেলা শুরু করে দিয়েছে। আগামীদিনে ওদের খেলা আরও জমে উঠবে।’