পিকে’র গুডবুকে থাকতে ফালাকাটায় তৃণমূল নেতাদের হুড়োহুড়ি

371

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট পেতে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রী। ফালাকাটায় দলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের টিম নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে এখনও কোনও ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসেনি। এখানে এখন দলের দক্ষ ও প্রবীণ নেতারা নেই। তাই দলের বাকি নেতাদের মধ্যে পিকে’র গুডবুকে থাকতে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। ছোট-বড় সব কর্মসূচিতেই ঝাপিয়ে পড়ছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। নেতাদের সঙ্গে লেগে রয়েছে পিকে’র টিমও। সূত্রের খবর, পিকে’র টিম মনে করছে, নেতাদের এই সক্রিয়তা আখেরে দলের পক্ষে সুবিধাই হবে।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ফালাকাটাকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। এজন্য অনেক আগে থেকেই সংঘ পরিবার এই কেন্দ্রের জন্য যোগ্য প্রার্থীর জন্য সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ফালাকাটার জেতা আসনকে কোনওভাবে হাতছাড়া করতে চাইছে না তৃণমূল কংগ্রেস। তবে গত বছর বিধায়ক অনিল অধিকারি ও চলতি বছরে আরও কয়েকজন দক্ষ নেতার প্রয়াণে তৃণমূল কিছুটা সংকটে পড়ে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এজন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ফালাকাটায় নতুন মুখের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলের ব্লক সভাপতি, যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি পদে রদবদল হয়েছে। বেশ কিছু অঞ্চল কমিটিও পরিবর্তন হয়েছে।

- Advertisement -

এনিয়ে দলের কোন্দল প্রকাশ পেলেও এখন তা অনেকটাই মিটেছে। এজন্য আগে থেকেই ফালাকাটার দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে পিকে’র টিম। সম্প্রতি পিকে’র টিমের উপস্থিতিতে দলের একাধিক কর্মসূচি ফালাকাটায় চলছে। এইসব কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাদের পারফরম্যান্স যাচাই করে নিচ্ছে টিম পিকে। আর দলের জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমেই কোন নেতার কিরকম গ্রহণযোগ্যতা সেটা খতিয়ে দেখছেন প্রশান্ত কিশোরের প্রতিনিধিরা। এক্ষেত্রে দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য অনেকেই পিকে’র টিমের কাছে ইচ্ছে প্রকাশ করছেন। সেজন্য জনসংযোগ চালাতে নেতাদের মধ্যে একরকমের প্রতিযোগিতাও চলছে।

দলীয় সূত্রে খবর, ফালাকাটায় অনিল অধিকারি প্রয়াত হওয়ায় নতুন মুখ হিসেবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা হিমসিম খাচ্ছে পিকে’র টিম। বিধায়ক প্রার্থী হিসেবে ফালাকাটার একাধিক তৃণমূল নেতার নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে। ফালাকাটার আসনটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। তাই রাজবংশী সম্প্রদায়ের কয়েকজন নেতার নাম নিয়েই জল্পনা চলছে।

এক্ষেত্রে দলের নতুন ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়ের নাম নিয়ে চর্চা হচ্ছে। যদিও সুভাষবাবু বলেন, ‘দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই হিসেবে আমি কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গধ্বনি যাত্রা, দুয়ারে সরকার সব কর্মসূচিতেই আমি যাচ্ছি। তবে প্রার্থীর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি যাঁকেই প্রার্থী করবেন, তাঁকে মেনে নিয়ে কাজ করব।’

এছাড়াও প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারির পুত্র জয়ন্ত অধিকারি, কিষান ও খেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শেফালি নট্টর নাম নিয়েও জল্পনা চলছে। তবে সরাসরি কেউই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেননি। জয়ন্ত বাবু বলেন, ‘এক্ষেত্রে দলনেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দলের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রসেনজিৎ রায় আবার বলেন, ‘ভোটে দাঁড়ানোর জন্য আমি ব্যতিব্যস্ত নই। তবে আমার ব্যাপারে পিকে’র টিম এবং শীর্ষ মহল থেকে খোঁজ খবর নিয়েছে। এক্ষেত্রে দল যদি দায়িত্ব দেয় তা পালন করব।’