কোচবিহার, ৯ এপ্রিলঃ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে এবার লড়াই মূলত বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হতে চলেছে। কারণ বিজেপি যেভাবে জেলায় তাদের শক্তি বাড়িয়েছে তাতে নির্বাচনে তৃণমূলের জয় পাওয়াটা খুব একটা সহজ হবে না। তবে সিতাই ও শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের উপরই তৃণমূলের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে। যদিও রাজ্যের শাসকদলের জেলা নেতারা অবশ্য সেকথা স্বীকার করতে চাইছেন না। তাঁদের দাবি, কম করে পাঁচ লক্ষ ভোটে জিতবেন।

২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল সবচেয়ে বেশি লিড পেয়েছিল শীতলকুচিতে। সেখানে ৮২ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। একইভাবে নাটাবাড়িতে প্রায় ৮০ হাজার ও সিতাই বিধানসভায় প্রায় ৭৭ হাজার ভোটে লিড পায় তৃণমূল। তবে গত তিন বছরে বিজেপি আগের থেকে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর উপর নিশীথ প্রামাণিককে বিজেপি প্রার্থী করার পর দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্যম বেড়ে গিয়েছে। সর্বোপরি গত ৭ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিশীথের সমর্থনে কোচবিহারে জনসভা করে যাওয়ায় বিজেপির পালে হাওয়া আরও জোর হয়েছে। বিজেপির প্রার্থী এখন বলতে শুরু করেছেন কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই। অন্য দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দ্বিতীয়, তৃতীয় হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই অবস্থায় দলের জয়ে জন্য তৃণমূল এখন তাকিয়ে রয়েছে সিতাই ও শীতলকুচির দিকে। কারণ, কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি মোটামুটি ছেড়েই দিয়েছে তৃণমূল। ওখান থেকে বিজেপির ভালো ভোটে লিড পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মাথাভাঙ্গা ও দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র দুটিতেও বিজেপিরই লিড পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রটি কোচবিহার-১ ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও কোচবিহার শহর নিয়ে গঠিত। এখানে গ্রাম পঞ্চায়েগুলিতে সবমিলিয়ে তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শহরে এসে তারা অনেকটা পিছিয়ে পড়বে। এতে এই কেন্দ্রটিতে মোটামুটি উভয় দলেরই পাল্লা সমান থাকার কথা। নাটাবাড়ি বিধানসভাতেও তৃণমূলের আগের অবস্থা নেই। সেখানে বিজেপির লিড পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। শীতলকুচি ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘুদের অনেক ভোট রয়েছে। তবে আগের তুলনায় এই কেন্দ্র দুটিতেও বিজেপি শক্তি বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় সিতাই ও শীতলকুচি কেন্দ্র দুটির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে তৃণমূল। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহসভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ জানান, তাঁদের প্রার্থী কম করে পাঁচ লক্ষ ভোটে জয়লাভ করবেন।