কৃষক আন্দোলন গ্রামমুখী করতে চাইছে তৃণমূল

244

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: শনিবার ফালাকাটায় কিষান ও খেতমজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার জেলা কোর কমিটির বৈঠক হয়। সংগঠনের তরফে গোটা জেলার কৃষি অধ্যুষিত এলাকায় খুলি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের কৃষি আইনের নেতিবাচক দিকগুলি এখন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে প্রচার করবে শাসক দল। এর পাশাপাশি ফঁড়ে বা দালালদের কবল থেকে কৃষকদের রক্ষা করার বার্তাও দেওয়া হবে বলে স্থির হয়েছে। তবে বিজেপি এই কৌশলকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। তৃণমূলের সাড়ে ন’বছরের রাজত্বেই কৃষকরা বেশি দালালদের খপ্পড়ে পড়েছেন বলে বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন।

গত কয়েক মাস ধরে ফালাকাটায় কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধিতায় একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু অধিকাংশ কর্মসূচিগুলি হয়েছে শহর কেন্দ্রিক। আর কৃষক নয়, এমন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাই ওইসব কর্মসূচিতে ভিড় করেছেন। এদিকে, বিজেপিও কেন্দ্রের কৃষি আইনের পক্ষে ‘শুনুন চাষি ভাই’ কর্মসূচি করেছে। তাই তৃণমূল কংগ্রেস নতুন বছরে প্রকৃত কৃষকদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে চাইছে। কারণ, ফালাকাটায় যে কোনও নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় কৃষক ভোট। কৃষকদের ভোট না পেলে এই আসন তৃণমূলের পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই কৃষক সংক্রান্ত মিটিং, আলোচনা বা কোনও কর্মসূচিকে এবার শহরের বদলে গ্রামমুখী করতে চাইছে শাসক দল। এজন্য এদিন শহরের বদলে ফালাকাটা ব্লকের কৃষি অধ্যুষিত দেওগাঁও অঞ্চলে কিষান ও খেতমজদুর তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়, জেলা সাধারণ সম্পাদক এক্রামুল হক, জেলা সহ সভাপতি আতিয়ার রহমান, কোর কমিটির জেলা আমন্ত্রিত সদস্য কৃষ্ণ বর্ধন দাস প্রমুখ।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, বৈঠকে নতুন বছরে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফালাকাটা সহ কৃষি অধ্যুষিত আলিপুরদুয়ার-১, আলিপুরদুয়ার-২, কুমারগ্রাম, মাদারিহাট ব্লকে এবার কৃষক সংগঠনের নেতারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে কৃষকদের উঠোনে বসে খুলি বৈঠক করবেন বলে স্থির হয়েছে। কেন্দ্রের কৃষি আইনে এজেন্সির মাধ্যমে কৃষি পণ্য বিক্রির কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের ফঁড়ে বা দালালদের খপ্পড়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করার সিদ্বান্ত নিয়েছে জেলা কমিটি।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘আমরা নতুন বছরে শহরের বদলে গ্রামমুখী কর্মসূচি করতে চাইছি। কারণ কৃষকরা গ্রামেই থাকেন। এজন্য জেলার প্রতিটি ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্বদের খুলি বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের কৃষি আইনের নেতিবাচক দিকের পাশাপাশি রাজ্যের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কথা আরও বেশি করে প্রচার করা হবে। দালালদের হাত থেকে কৃষকদের আমরা রক্ষা করতে চাই৷ আমরা চাই, কৃষকরা যেন কৃষি পণ্যের সঠিক দাম পান।’

তবে তৃণমূলের রাজত্বেই কৃষকদের বেশি ফড়ে বা দালালদের খপ্পড়ে পড়তে হয়েছে বলে পালটা তোপ দেগেছে বিজেপি। দলের কিষান মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি সুজিত সরকার বলেন, ‘ওরা শেষ সময়ে কৃষক দরদি সাজতে চাইছে। তৃণমূলের সময়কালেই কৃষকরা দালালদের খপ্পড়ে বেশি পড়েছেন। ফসলের ন্যায্য দাম পাননি। কেন্দ্রের কৃষি আইন হল কৃষকদের রক্ষাকবচ। তাই ওদের লোক দেখানো কৃষক আন্দোলনে কোনও কাজ হবে না।’