উপনির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে ফালাকাটায় তৃণমূলের বৈঠক

962

ফালাকাটা: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ নভম্বরের মধ্যে ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। সেজন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে সব রাজনৈতিক দলের। এক্ষেত্রে উপনির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। শনিবার ফালাকাটার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি পূর্ব কাঁঠালবাড়িতে এসে প্রায় ৫ ঘন্টা সময় কাটান বিজেপি সাংসদ জন বারলা। বিজেপির ওই কর্মসূচির পালটা হিসেবে রবিবার পূর্ব কাঁঠালবাড়ির ১৩/২৬৫ ও ২৬৬ নম্বর বুথে কর্মীসভা করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে, পূর্ব কাঁঠালবাড়ির অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন রায় প্রমুখ।

সূত্রের খবর, এই দুটি বুথে সংখ্যালঘু ভোট বেশি রয়েছে। তাই সংখ্যালঘু ভোটের কথা মাথায় রেখে তৃণমূল এই বুথ দুটিতে এদিন কর্মীসভার মাধ্যমে উপনির্বাচনের প্রচার শুরু করে দেয়। দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী সভায় বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট টেনেছে। এখন মানুষ সব বুঝে গিয়েছেন। তাই ফালাকাটার উপনির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ এদিনের কর্মীসভায় মহিলাদের উপস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা সভাপতি।

- Advertisement -

এদিকে, বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তৃণমূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় ফালাকাটার কমিউনিটি হলে। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মৃদুল গোস্বামীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের জেলার মুখপাত্র বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন, ব্লক কো-অর্ডিনেটর সুভাষ রায় প্রমুখ। বৈঠকে দলের অঞ্চল সভাপতি, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সভাপতিরাও উপস্থিত ছিলেন। উপনির্বাচনে প্রচারের ক্ষেত্রে জনসংযোগের জন্য এদিন দলের একটি সূচি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি গত লোকসভা নির্বাচনে অধিকাংশ অঞ্চলে দলের ভোট কেন কমে যায়, তার জবাব দিতে হয় অঞ্চল সভাপতিদের। কোন অঞ্চলে কতটা উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, আরও কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা যেতে পারে, সেইসব তথ্য গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের কাছ থেকে তৃণমূল নেতৃত্বরা জেনে নেন। তবে এদিনের বৈঠকে প্রার্থী নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে সূত্রের খবর।

দলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘দলের রণকৌশল নিয়েই এদিনের বৈঠক হয়। প্রার্থী নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। প্রার্থী ঠিক করবেন দলনেত্রী। যাকেই প্রার্থী করা হোক, আমরা সবাই মিলে দলকে জেতানোর লক্ষ্যে কাজ করছি।’ এদিকে, প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারির নামের আবেগকে ভোটের প্রচারে কাজে লাগানোর সিদ্বান্ত নিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, অনিল অধিকারি একজন জনপ্রিয় বিধায়ক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কখনও গ্রুপবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। তাই অনিলের নামকেই কাজে লাগাতে চাইছে দল। তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘অনিল অধিকারি জনপ্রিয় বিধায়ক ছিলেন। তাঁর নামের আবেগে এই উপনির্বাচন হবে। এই ভোটে দল জিতলেই ওঁনার আত্মা শান্তি পাবে।’