ভোটের মুখেও তৃণমূলের জেলা কার্যালয় খোলার লোক নেই

522

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : সামনে পুরভোট, অথচ শিলিগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয় খোলার লোক নেই। দলীয় বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন ছাড়া সেভাবে পার্টি অফিস খোলা হয় না বলে দলীয় সূত্রের খবর। দলের নেতাদের একাংশ বলছেন, রাজ্যের শাসকদলের দলীয় কার্যালয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকবে, লোকজন আসবে-যাবে, নেতারা পালা করে পার্টি অফিসে বসবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলছে। হিলকার্ট রোডের উপরে সিপিএমের জেলা কার্যালয় বছরের ৩৬৫ দিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। অথচ রাজ্যের শাসকদল হওযা সত্ত্বেও শিলিগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় খোলার লোক কেন পাওযা যায় না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, পার্টি অফিস নিয়মিত খোলা হয়। সেখানে নেতা-কর্মীরা বসেন। আমিও সুযোগ পেলেই অফিসে যাই। অফিস বন্ধ থাকার কথা নয়।

শিলিগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের ছন্নছাড়া ভাবটা কিছুতেই কাটছে না। অভিযোগ, পুরভোটে বামেদের কাছ থেকে বোর্ড কীভাবে ছিনিয়ে নেওযা যায় তা নিয়ে দলীয় স্ট্রাটেজি ঠিক করা দূরে থাক, নেতারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কে কোথায় টিকিট পাচ্ছেন, কে পাচ্ছেন না তা নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মেতে উঠেছেন। সবাই নিজের স্বার্থ নিয়ে বেশি চিন্তিত হওযায় পার্টি অফিস খোলার কথা নেতারা ভুলে যাচ্ছেন বলে দলের অন্দরেই চর্চা চলছে। দলের অনেক প্রবীণ নেতা বলেন, সারাবছর যাই হোক, সামনেই ভোট আসছে। এখন তো পার্টি অফিসটা নিয়মিত খোলা রাখা উচিত। ভোট যে কোনও দিন ঘোষণা হয়ে যাবে। সিপিএম পুরবোর্ডে ক্ষমতায় থেকেও বেশ কিছুদিন আগেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগ, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক, পথসভা শুরু করে দিয়েছে। খোদ মেয়র অশোক ভট্টাচার্য প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। আর আমাদের দলের নেতারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। য়ে প্রার্থী হতে পারবে তার লোকজনই ভোটে কাজ করবে, বাকিরা ঘরে বসে যাবে। এভাবে চললে শিলিগুড়ি দখল স্বপ্নই থেকে যাবে।

- Advertisement -

দলীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিন দুবেলা জেলা কার্যালয় খোলা এবং বন্ধ করার জন্য দলের দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। অফিসের জন্য একজন সাফাইকর্মীও রয়েছেন। কিন্তু তারপরেও নিয়মিত দলীয় কার্যালয় খুলছে না। শুক্রবার সকাল থেকেই পার্টি অফিস বন্ধ অবস্থায় দেখা গিয়েছে। দলের জেলা সভাপতি এদিন পুরনিগমে দলের কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। জেলা সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পরে কোনও জরুরি বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন ছাড়া পার্টি অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন গৌতম দেবও। দলের অনেক নেতা সকাল, বিকাল হিলকার্ট রোডে সিপিএম পার্টি অফিসের উলটো দিকের লেনে আড্ডা দেন। কিন্তু তাঁরা কেউ পার্টি অফিসে গিয়ে বসেন না। ওই নেতাদের কেউ কেউ বলেন, পার্টি অফিস তো নিয়মিত খোলেই না। হয়তো সবাই মিলে একটু আড্ডা দেবেন বলে পার্টি অফিসে গিয়ে দেখলেন, নীচেই তালা মারা রয়েছে। অনিয়মিতভাবে পার্টি অফিস খোলা হয় বলেই কেউই বৈঠকে ডাক না পেলে সেখানে যান না।