শৌচালয়ের প্রবেশপথ দখল করে পার্টি অফিস তৃণমূলের, সমস্যায় মহিলারা

216

হরিশ্চন্দ্রপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত হোর্ডিং টাঙিয়ে তুলসিহাটা বাসস্ট্যান্ডের মহিলা শৌচালয়ের প্রবেশের মুখে রমরমিয়ে চলছে শাসকদলের অটো ড্রাইভার ইউনিয়নের পার্টি অফিস। শৌচালয়ের সামনেই বসে থাকছেন শাসকদলের নেতারা। ফলে তুলসিহাটা বাসস্ট্যান্ডে এসে শৌচালয় যেতে সংকোচ বোধ করছেন মহিলারা। এই নিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এর তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি।

হরিশচন্দ্রপুরের তুলসিহাটা বাসস্ট্যান্ডে সরকারি জায়গায় মহিলাদের সুবিধার্থে পাঁচ বছর আগে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল পঞ্চায়েতের তরফে। অভিযোগ, গায়ের জোরে রাতারাতি সেই শৌচাগার দখল করে নিয়েছে শাসকদল পরিচালিত তুলসিহাটা অটো ইউনিয়ন। শৌচাগারের পাশে উপরে ত্রিপল দিয়ে ব্যানার লাগিয়ে অটো ইউনিয়নের অফিস হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক মহিলা জানান, মহিলা শৌচালয়ের প্রবেশের পথে এলাকার নেতারা ফেস্টুন টাঙিয়ে বসে থাকেন। এই অবস্থায় শৌচালয় যেতেও সংকোচ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তথা চায়ের দোকানদার গোকুল সাহা বলেন, ‘অটোচালকরা গায়ের জোরে দাদাগিরি করে জায়গা দখল করেছেন। আমরা চাই এই দখল ওঠানো হোক। কারণ এখানে বহু মহিলা শৌচকর্মের জন্য আসেন। তাঁদের সমস্যা হয়।’

- Advertisement -

অটো ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমরা সারাক্ষণ এখানে থাকি রোদ-বৃষ্টিতে। তাই আমাদের বসার জন্য উপরে ত্রিপল দিয়ে জায়গাটা নিয়েছি। শৌচাগারের জায়গা ছেড়ে দেওয়া আছে। দখল করার কিছু নেই। আর আমরা সভাপতি এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানিয়ে করেছি।’

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস বলেন, ‘আপনাদের মুখে ঘটনাটি শুনলাম। দলগতভাবে তদন্ত হবে। এটা ঘটে থাকলে খুব নিন্দনীয়। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের জন্য বহু প্রকল্প চালু করেছেন। তাই এই ধরনের কাজ মেনে নেওয়া যাবে না।’ এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি নেতা দেবব্রত পাল বলেন, ‘ঘটনাটি শুনলাম। দখল করা তৃণমূলের সংস্কৃতি। কাটমানি, দাদাগিরি এইসব ওরা করে। মানুষ সব দেখছে। পঞ্চায়েত ভোটে এসবের জবাব দেবে।’