নদীর চরে তৃণমূলের অফিস নিয়ে প্রশ্ন

261

শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে পঞ্চম মহানন্দা সেতুর নীচে নদীর চরে দলীয কা্র্যালয় বানিযে ফেলেছে তণমূল কংগ্রেস। প্রশ্ন উঠেছে, নদীর চর দখল করে বিক্রি বরদাস্ত হবে না বলে যে দল দাবি করছে, সেই দলের নেতারা কীভাবে নদীর চরে পার্টি অফিস তৈরি করেছেন? যদিও নদীর চরে পার্টি অফিস তৈরি হয়নি বলে দাবি করেছে তণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি নিয়ে দলের মাটিগাড়া-১ অঞ্চল সভাপতি ব্রজকান্ত বর্মন বলেন, ‘পার্টি অফিসটি নদী থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে। প্রযোজন হলে সেখান থেকেও অফিসটি সরিয়ে নেব।’ দলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্ত দিয়ে বয়ে গিয়েছে মহানন্দা। পঞ্চম মহানন্দা সেতু পেরিয়ে মাটিগাড়ার দিকে গেলে দেখা যাবে পতিরামজোতের বি টি রণদীপ কলোনি, বিনযকৃষ্ণপল্লির নদীর চর দখল করে বহু ঘরবাড়ি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ এই অঞ্চলে বসবাসও করছেন। অভিযোগ, তণমূল কংগ্রেসের কযেজন নেতা সিন্ডিকেট তৈরি করে নদীর চর কোথাও কাঠাপ্রতি ৭৫ হাজার টাকা, কোথাও এক লক্ষ টাকা আবার কোথাও দেড় লক্ষ টাকায বিক্রি করছেন। এমনই জমি দখল করে বিক্রি করতে গিযে বি টি রণদীপ কলোনির বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে এই সিন্ডিকেট। কিন্তু এই কলোনির পাশে থাকা বিনয়কৃষ্ণপল্লিতে মহানন্দা নদীর চরে বসতির পাশাপাশি শাসকদল তৃণমূলের দলীয কার্যালয় তৈরি হয়েছে। এই পার্টি অফিস নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীযরা।

- Advertisement -

স্থানীয বাসিন্দাদের অনেকে বলেছেন, আমরা জমি কেনার আগে থেকে এখানে পার্টি অফিস রয়েছে। জমির দালালরা তো এই পার্টি অফিস দেখিয়ে আমাদের কাছে জমি বিক্রি করেছে। কোনওদিন উচ্ছেদ হতে হবে না বলে আমাদের অভয় দেওয়া হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে এটা নদীর চর। যে কোনও সময় উচ্ছেদ করা হতে পারে। তাহলে আমরা যাব কোথায়? ব্রজকান্তবাবু বলেন, ‘ওই পার্টি অফিসটি অস্থায়ীভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় রয়েছে। স্থায়ী কোনও ভবন তো তৈরি করা হয়নি। সরকারি কাজে প্রয়োজনে তা তুলে নেওয়া হবে।’

ছবি- মহানন্দার চরে তৃণমূলের পার্টি অফিস।

তথ্য ও ছবি – রণজিৎ ঘোষ