আমি বাংলার বীর সন্তান, সাহস থাকলে বিজেপি আমার নামে অভিযোগ তুলুক: অভিষেক

0

সাতগাছিয়া: রবিবার সাতগাছিয়ার মুচিশা মাঠে আয়োজিত একটি জনসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় তিনি বলেন, ‘বাংলার বীর সন্তান আমি, তাই আমার নামে যাঁরা কিছু বলে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিই। আর সেকারণেই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা কেউ আমার নাম নিতে সাহস পাননা। যদি কারও সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে, তাহলে ভাববাচ্যে কথা না বলে আমার নাম নিয়ে দেখাক। আমার নাম নিয়ে কেউ কিছু বললে নাকে দড়ি দিয়ে তাঁদের আদালতে টেনে আনব। আর যদি তা না পারি, তাহলে আমি এক বাপের ব্যাটা নই।’

তিনি আরও জানান, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে লড়াই করতে জানে। তিনি এদিন ডায়মন হারবার থেকেই নির্বাচনী লড়াই শুরু করলেন। রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে অভিষেকের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে সমর্থ হয়েছেন। তবে যতদিন না বাজারে করোনার টিকা আসছে, ততদিন সকলকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অভিষেকের বার্তা, দলের মধ্যে কোনও গোষ্ঠী কোন্দল না রেখে সকলকে একসঙ্গে বুথ ভিত্তিক জনসংযোগে নামতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম সকলেরই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আর তার একমাত্র কারণ, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সৈনিক। তাঁর দাবি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একজন গুন্ডা, মাফিয়া। কৈলাস বিজয়বর্গীয় বহিরাগত। তারঁ ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়ও একজন গুন্ডা।

আমফান প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিষেক জানান, তাঁর এলাকায় ২ লক্ষ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছে। সাহায্যের জন্য কেউ কোনও কাটমানি নিয়েছেন, এটা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নিজে তাঁদের শ্রীঘরে ঢোকাবেন।

কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়ে অভিষেকের বক্তব্য, নির্বাচন এলেই যুদ্ধের জুজু দেখান প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে পুলওয়ামা দেখিয়ে নির্বাচনে জিতেছেন। পাকিস্তান আক্রমণ করলে তার ওপর আক্রমণ হোক, তা তিনিও একশোবার চান। কিন্তু চিন আক্রমণ করলে কেন তার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয় না, সেই প্রশ্ন তোলেন সাংসদ। পাশাপাশি তাঁর দাবি, ভারতের যে ভূখণ্ড চিন দখল করে রেখেছে, অবিলম্বে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু টিকটক বন্ধ করলেই চলবে না।

সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তিনি লিফট বা প্যারাসুট দিয়ে রাজনীতির ময়দানে নামেননি। একটার পর একটা সিঁড়ি বেয়ে আজ ওই জায়গায় পৌঁছেছেন। তার জবাব দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ প্যারাসুটে বা লিফটে নামেননি, প্রত্যেককেই ধীরে ধীরে ওই জায়গায় পৌঁছোতে হয়েছে। সুতরাং যাঁরা বড় বড় কথা বলছেন তাঁদের নিজের অবস্থানটাও ভালোভাবে দেখা উচিত।’

এদিন সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় ছিল সাজ সাজ রব। মোতায়েন ছিল পুলিশ। তবে এদিনের সভায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা আসনের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় বিধায়কদের মধ্যে পাঁচজনকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক দীপক হালদার ও মহেশতলার প্রবীণ বিধায়ক দুলাল দাস অনুপস্থিত ছিলেন।