ফালাকাটায় তপশিলি সংলাপ কর্মসূচিতে প্রশ্নের মুখে তৃণমূল

520

ফালাকাটা: আলিপুরদুয়ার জেলায় একমাত্র ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রটিই তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। তাই নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তপশিলি সম্প্রদায়ের ভোট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ তপশিলি সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে বামেদের কাছ থেকে এই আসনটি ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে বর্তমানে তপশিলি ভোটব্যাংকের একাংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে রয়েছে। তাই তপশিলি ভোট ব্যাংককে টার্গেট করেই পিকে’র নির্দেশে সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের তপশিলি সংলাপ কর্মসূচি শুরু হয়। কিন্তু ফালাকাটার বাছাই করা নেতারা এই কর্মসূচিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। আবাসন, কর্মসংস্থান, কাস্ট সার্টিফিকেট, স্কুল পড়ুয়া সহ নানা সমস্যার কথা নোট করে নিতে হচ্ছে তৃণমূলকে। দলের নেতাদের দাবি, সমস্যাগুলি জানার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসব করে কোনও লাভ হবে না বলে বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন।

- Advertisement -

ফালাকাটার মূল এলাকা বাদে ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনে ফালাকাটা বিধান সভা কেন্দ্রে ভালই ধাক্কা খায় তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের মতে, অনিল অধিকারির নেতৃত্বে দীর্ঘ কয়েক বছর তপশিলি সম্প্রদায়ের ভোট তৃণমূলের সঙ্গেই ছিল। কিন্তু গত এক বছর আগেই এই সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংকে থাবা বসায় বিজেপি।

অনিল অধিকারির মৃত্যুর পর এই ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে মরিয়া প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। এজন্য রাজবংশী সম্প্রদায় থেকেই প্রথমে সন্তোষ বর্মন এবং এখন সুভাষ রায়কে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এই ভোট ব্যাংক অটুট থাকবে কি না তা নিয়ে দলের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।

মূলত উত্তরবঙ্গের তপশিলি ভোট ব্যাংকের কথা ভেবেই তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর প্রতিটি বিধান সভা কেন্দ্র থেকে ১০ জন নেতাকে বাছাই করে নেন। এই বাছাই নেতারাও তপশিলি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত। পুজোর আগে ওইসব নেতাদের ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে তপশিলি সংলাপ কর্মসূচি। নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তপশিলি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে নেতারা রাজবংশী ভাষায় কথা বলে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি কোথায়, কোন এলাকায় কার, কী সমস্যা বা দাবি আছে তা নথিভুক্ত করতে হবে। আলিপুরদুয়ার জেলার ক্ষেত্রে ফালাকাটায় এই কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায়, এসসি, এসটি সেলের ব্লক সভাপতি নরেন্দ্রনাথ রায়, কৃষক সংগঠনের ব্লক সভাপতি সুনীল রায় প্রমুখের নেতৃত্বে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে এই কর্মসূচি চলছে। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে নেতাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই সম্প্রদায়ের অনেকেই এখনও কাস্ট সার্টিফিকেট পায়নি। শিক্ষিত বেকারদের চাকরি হচ্ছে না। কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ, কীটনাশক পাচ্ছেন না। প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল পড়ুয়ারা স্মার্ট ফোনের অভাবে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। আবার ডিজিটাল কার্ড না থাকায় এখনও অনেকেই র‍্যাশন সামগ্রী পাচ্ছেন না ইত্যাদি। দলের নেতা সুনীল রায় বলেন, ‘সব কিছুই নোট করে রাজ্য স্তরে পাঠানো হচ্ছে। বাসিন্দাদের দিদিকে বলো কার্ডও দেওয়া হয়েছে।’

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘তপশিলি সংলাপে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। সরকারি নানা প্রকল্পের বার্তাই গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’ এদিকে তৃণমূলের এই কর্মসূচিকে পাত্তা দিতে চায়নি বিজেপি। দলের জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, ‘পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় লোক দেখানো কর্মসূচি করে তৃণমূলের কোনও লাভ হবে না।’