‘রাবণ রাজনীতিক’দের দলে নয়, বার্তা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের

146

বর্ধমান: সুনীল মণ্ডল ফের তৃণমূলে ফিরবেন এমন জল্পনা তৈরি হতেই শাসক শিবিরে জোরালো হচ্ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। বর্ধমান পূর্ব লোকসভা এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের লাগানো ফ্লেক্সেও ঘটেছে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। শুক্রবার সুনীল মণ্ডল সহ বিজেপির কেন্দ্র ও রাজ্য নেতাদের বিরোধিতা করে তাঁদের রাবণের সঙ্গে তুলনা করে এমন ফ্লেক্সেই ছয়লাপ জেলার জামালপুর বিধানসভার শুড়েকালনা এলাকা, যা নিয়ে আলোড়ন পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এই বিষয়ে জেলা তৃণমূলের সম্পাদক প্রদীপ পাল জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে লড়ে জিতে সুনীল মণ্ডল সাংসদ হয়েছিলেন। অথচ বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি নেতাদের নির্দেশ শিরোধার্য মেনে তৃণমূলের বিরোধিতা শুরু করেন। বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো সহ অনেককে আক্রমণ করতে থাকেন। ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও জনসভায় দেন সুনীলবাবু। কিন্তু ভোটে বিজেপির ভরাডুবির পর এখন তাঁর ভোলবদল হয়েছে। তৃণমূলে ফেরার জল্পনা জাগিয়ে সুনীলবাবু সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। এই বিষয়টি প্রকাশ হতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে বর্ধমান পূর্ব লোকসভা এলাকার তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে। দলের কর্মীরা কেউ চান না সুনীল মণ্ডল ফের তৃণমূলে ফিরে আসুক। সেই দাবির বিষয়টি তুলে ধরতেই সুনীল মণ্ডলের রাজনৈতিক স্বরূপ তুলে ধরে এমন ফ্লেক্স তৃণমূল কর্মীরা এলাকায় লাগিয়েছেন বলে জানান প্রদীপবাবু। যদিও এই বিষয়ে সুনীল মণ্ডলকে ফোন করা হলে তিনি ফোন না ধরায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে জামালপুর বিধানসভায় বিজেপির আহ্বায়ক জিতেন ডকাল জানান, সুনীল মণ্ডল হলেন নীতি আদর্শহীন ক্ষমতার মধু খাওয়া রাজনীতিক। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসছে, এমন হাওয়া উঠতেই তিনি বিধানসভা ভোটের আগে ‘ক্ষমতার মধু’ ভক্ষনের বাসনা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিজেপি জিততে না পারায় তাই এখন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফের ভিড়ে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। রাজ্যে এইরকম অনেক সুনীল মণ্ডল রয়েছেন। যাদের নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চলছে। জিতেনবাবু জানান, সুনীল মণ্ডলের মতো নেতা বিজেপিতে থাকুক তা তিনিও চান না।

- Advertisement -