৪ নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ, উত্তরে বিক্ষোভে শামিল তৃণমূল

134

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: নারদ ঘুষ কাণ্ডে রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, ছাড়াও তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। আর দলের দুই মন্ত্রী ও বিধায়ককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দক্ষিণবঙ্গ সহ উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় তুমুল বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। কার্যত লকডাউনের মধ্যেই বিধি ভেঙে প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল। কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা শহরের কলেজ মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। দুপুরে দিনহাটা মেইন রোডেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। উপস্থিত ছিলেন দিনহাটা শহর ব্লক সভাপতি অসীম নন্দী, তৃণমূল নেতা সাবির সাহা চৌধুরী, আমির আলোম সহ অন্যান্যরা।

ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমহনি মোড় এলাকাতেও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে অবরোধ। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনে হেরে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা অন্যায়ভাবে তৃণমূলের নেতাদের গ্রেপ্তার করিয়েছে। অন্যদিকে, একই অভিযোগে বিজেপি নেতা মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, শঙ্কুদেব পান্ডাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না সেই প্রশ্নও তোলেন অবরোধকারীরা। এদিন বিভিন্ন এলাকায় অবরোধে কেন্দ্রের বিজেপি নেতা, সিবিআই এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। পরে অবশ্য সর্বত্রই পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়। এদিন শিলিগুড়ি আদালতেও এভাবে গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সমর্থক আইনজীবিরা। তাদের অভিযোগ, সিবিআই সদর দপ্তরে হেনস্থা করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়কে।

- Advertisement -

প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে মালদা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। গাজোলের কদুবাড়ি মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতীকী বিক্ষোভে শামিল হন ছাত্র পরিষদের কর্মী-সমর্থকরা। পোড়ানো হয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের প্রতিচ্ছবি। ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসূন রায় জানান, যেভাবে সংবিধান এবং রাজ্যের বিধানসভাকে অপ্রাসঙ্গিক করে নিজের ক্ষমতা জাহির করছেন রাজ্যপাল তারই প্রতিবাদে এই প্রতীকী বিক্ষোভ। চাঁচলেও বিক্ষোভে শামিল হয় তৃণমূল। এদিন চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষের নেতৃত্বে নেতাজি মোড়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিধায়কের অভিযোগ, ‘সিবিআই আইন মেনে গ্রেপ্তার করেনি। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে এসব করা হয়েছে। একই আইনে বিজেপির নেতাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।’ বিজেপি নেতাদের ওপর কেন আইন প্রয়োগ হবেনা? এনিয়ে বিজেপির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নীহারবাবু। কোভিড নিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিজেপি সিবিআইকে দিয়ে এমন নোংরামি করেছে।

এদিকে, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের কর্মীরা। এদিন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদে শামিল হন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব। মেমারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানানো হয়।

নারদ মামলায় এদিন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তাঁদের নিজাম প্যালেসে নিয়ে গিয়ে অ্যারেস্ট মেমোতে সই করানো হয়। এই ঘটনারই প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিজাম প্যালেস। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা।