দিদির ডায়ারি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ তৃণমূলের

428

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা কারা কারা পেয়েছেন, সে ব্যাপারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। ফালাকাটার উপনির্বাচনকে টার্গেট করে সরকারি কর্মচারীদের মতো একটি ফর্ম নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন দলের কর্মীরা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, অথচ তৃণমূলকে ভোট দেবেন না ভাবছিলেন, তাঁদের আরেকবার ভাবতে বাধ্য করা হচ্ছে। আর যাঁরা সুবিধা নেননি তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, কোন কোন সুবিধা তাঁরা পেতে পারেন। সূত্রের খবর, ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশেই ফালাকাটায় বুথস্তরের তৃণমূল কর্মীদের মাধ্যমে এই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এটা সম্ভবত ট্রায়াল রান। এতে সাফল্য এলে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্যত্রও এই কৌশল প্রযোগ করবে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, এই কাজের মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়ানো হচ্ছে। বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের এই কৌশলকে পাত্তা দিতে চায়নি।

ফালাকাটার আসন দখলে রাখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। গত লোকসভা ভোটের সময় থেকে বিজেপির শক্তি বেড়ে যাওয়ায় তৃণমূলকে এখন একাধিক কৌশল প্রযোগ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে পিকের টিম বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। পিকের নির্দেশে এর আগে ফালাকাটার ২৬৬টি বুথে ভোটার তালিকায় দাগ টেনে প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে দশজন করে সক্রিয় কর্মীকে বাছাই করে কাজে লাগানো হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের ব্লক ও অঞ্চল স্তরের নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এখন বুথস্তরকে গুরুত্ব বেশি দিচ্ছে পিকের টিম। এজন্য বুথ সভাপতিদেরকেও ঘনঘন ফোন করা হচ্ছে। তবে জনসংযোগে ঘাটতি মেটাতে এবার সাদা কাগজে একটি ফর্ম্যাট ছাপিয়ে বুথ কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। এই বিধানসভা কেন্দ্রের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১টি বুথে কিছুটা গোপনভাবেই এই কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন অন্য গ্রাম পঞ্চায়েগুলিতেও দলের এই কর্মসূচি শুরু হবে।

- Advertisement -

দলের তরফে ছাপানো ফর্মটির নাম খোঁজখবর ও দিদির ডায়ারি। সেই ফর্মের মাধ্যমে লিখিতভাবে জেনে নেওয়া হচ্ছে, পরিবারের প্রধানের নাম, ফোন নম্বর, পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, ৬০ বছরের বেশি পুরুষ বা মহিলা সদস্য আছেন কি না, ১৮-২১ বছরের সদস্য কজন, পরিবারে শিক্ষার্থীর সংখ্য কত প্রভৃতি। জেনে নেওয়া হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের কোনও সুবিধা তাঁরা পেয়েছেন কি না। ফর্মে তার নীচেই রয়েছে রাজ্য সরকারের ৪৮টি প্রকল্পের নাম। কে কী কী সুবিধা পেয়েছেন, সেই প্রকল্পের নামের পাশে টিকচিহ্ন দেওয়া হচ্ছে। দলের এক বুথ সভাপতি বলেন, অধিকাংশ পরিবারই গড়ে ১০-১২টি করে প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। যাঁরা এখনও পাননি তাঁদের অবগত করানো হচ্ছে। তৃণমূলের ফালাকাটা ব্লক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ রায় বলেন, আমাদের কর্মীরা এভাবেই এখন বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। খুব দ্রুত এই জনসংযোগের কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। দলের কেউ এখন বসে নেই। তবে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, তৃণমূল এখন যত কৌশলই নিক না কেন, কাজে লাগবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পকে রাজ্য সরকারের প্রকল্প হিসেবে ওরা চালিয়ে দিচ্ছে। আমাদের কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।