মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের, গ্রেপ্তার ২ তৃনমূল নেতা

353

হাওড়া: মঙ্গলবার রাতে হাওড়া বাগনান থানার গোপালপুরের এক বাড়িতে কলেজ ছাত্রী মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে যায়। অভিযোগ, ওই ঘটনায় জড়িত দুই যুবক গোপালপুর এলাকার পরিচিত তৃণমূল কর্মী। তাঁদের মধ্যে একজনের স্ত্রী আবার স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য। ঘটনার খবর পেয়ে, এদিন সকালেই বাগনানে ছুটে যান বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি তথা সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। বিজেপির দুই সাংসদ সেই বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, মৃত মহিলার আগে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। তা না হলে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা যাবেনা। পুলিশের ওই বক্তব্যে, বেজায় চটে যান লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারই ঘোষণা করেছেন যে, কোনও মৃত ব্যক্তির লালার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা আর করা যাবে না। তাহলে পুলিশ কেন এমনটা দাবি করছে।

- Advertisement -

যদিও পুলিশের তরফে খুন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পরে উপর মহলের নির্দেশে পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কুশ বেরা নামে ওই স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যার স্বামী ও তাঁর এক সহচরকে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বাগনান কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী রাত বারোটা নাগাদ তাঁর বাড়ির ছাদের মুখে সিঁড়িতে বসে মোবাইলে গেম খেলছিল। হঠাৎই তাঁর পা ধরে একজন টান দিলে চিৎকার করে ওঠে। তাঁর চিৎকার শুনে তাঁর মা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে দুষ্কৃতীরা যুবতীর মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। যুবতীর মা সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে যান। আর সেই সুযোগেই অভিযুক্তেরা চম্পট দেয়।

এদিকে পড়ে গিয়ে গুরুতর যখম হন ছাত্রীর মা। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা বাগনান হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা উলুবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের তুলে কিছুদুর যেতেই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়।

ওই কলেজ ছাত্রী পুলিশকে জানায়, সে রাতে ছাদের সিঁড়িতে গিয়ে বসবার আগে থেকেই অভিযুক্তরা পাশের সুপুরি গাছ বেয়ে তাঁদের বাড়ির দোতলা ছাদে উঠে বসেছিল। সে ছাদের সিঁড়িতে গিয়ে বসতেই তাঁরা তাঁকে টেনে ছাদের উপর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

বাগনান থানার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ও তাঁর সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে, বসিরহাটের হাড়োয়ায় তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর দলবল এক গৃহবধূর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। মহিলার অপরাধ তাঁর স্বামী বিজেপি সমর্থক। এদিন সেই গ্রামে পৌঁছান মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মহিলার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরে হাড়োয়া থানায় গিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।