উন্নয়ন হচ্ছে না, ভিটে হারাতে বসে উপলব্ধি তৃণমূল কর্মীর

রাঙ্গালিবাজনা : সেতু তৈরি করার এক বছরের মধ্যে ভেঙে গিয়েছে সংযোগকারী রাস্তা। তার বছর তিনেক পর গোটা সেতুটিই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ঝোরায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ। শুরু হয় ঘুরপথে যাতায়াত। এদিকে, ঝোরার পাড়ভাঙনে হারিয়ে গিয়েছিল রাস্তাটিও। তবু, ঝোরার পাড়ভাঙন থেকে বাড়িগুলি বাঁচাতে তৈরি হবে পাড়বাঁধ, এই আশায় বুক বেঁধে কয়েক বছর ধরে অপেক্ষা করছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী মহম্মদ রফিক। তবে নাককাটিঝোরার প্রবল পাড়ভাঙনে তাঁদের বাড়ির একটি ঘর ধসে পড়েছে রবিরার রাতে। অথচ, কোনও জনপ্রতিনিধিই পা রাখেননি এলাকায়। ভিটে হারাতে বসে রফিকের উপলব্ধি, এলাকায় উন্নয়ন বলে কিছু নেই। রফিকের মা রোশনি বেগমের মন্তব্য, এখন কী হবে আল্লাই জানে।

জনপ্রতিনিধিরা না এলেও অবশ্য রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে দুশো চল্লিশ টাকা ও একটি ত্রিপল দেওয়া হয়েছে রফিকদের পরিবারকে। ওই ত্রিপলটি ভাঙা ঘরের ভিতের সঙ্গে বেঁধে ঝোরার দিকে ঝুলিয়ে দিয়েছেন রফিক। তাঁর আশা, ঝোরার জল ত্রিপলে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যাবে। মাটি ধসে না পড়লেই ঘরটির বাকি অংশ রক্ষা পাবে। রফিকের ভাই আবদুল ওয়াহাব কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। এদিন তাঁর ঘরের একাংশ ধসে পড়েছে ঝোরায়। ভেসে গিয়েছে জানলার পাল্লা, ফ্রেম, বেড়া সহ ঘরে রাখা বেশ কিছু জিনিসপত্র। ওয়াহাবের স্ত্রী রুনি পারভিন তাঁর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন শাশুড়ির ঘরে। তাঁদের একমাত্র ঘরটির একাংশ এখন ঝুলছে ঝোরার ওপর। ঝোরার পাড়ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে জাকির হোসেনের বাড়িও। রফিকের মতো তিনিও ত্রিপল দিয়ে পাড়ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, জানি আমাদের বিপদে কেউ এগিয়ে আসবে না।

- Advertisement -

মুন্সিপাড়ার ঝোরার সেতু ভেঙে পড়েছে দুবছর আগে। এখন মিল চৌপথি হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করেন নাককাটিঝোরার পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দারা। মহম্মদ মোক্তাদের সুপারি বাগান, বাঁশঝাড় হারিয়ে গিয়েছে ঝোরার গর্ভে। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ষাট মিটার দীর্ঘ বোল্ডারের পাড়বাঁধ তৈরির টাকা বরাদ্দ হয় চার বছর আগে। কয়েকদিন আগে কমবেশি মাত্র পঁচিশ মিটার অংশে তারজালি ও বোল্ডার দিয়ে পাড়বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। তবে পাড়ভাঙন ঠেকাতে সেটি কোনও কাজেই লাগছে না। মহম্মদ রফিক বলেন, আমিও তো তৃণমূল করি। অথচ আমাদের নেতা, পঞ্চায়েতরাই খোঁজ নিচ্ছেন না। পাশে দাঁড়িয়ে রফিকের বিধবা মা রোশন বেগমের মন্তব্য, এরা তাহলে নেতা হল কেন? শুধু এবার আসুক ভোটের আগে।

তবে রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য লিবনুস ওরাওঁ বলেন, মুন্সিীপাড়ায় তারজালি ও বোল্ডার দিয়ে আরও একটি নব্বই মিটার লম্বা পাড়বাঁধ তৈরির জন্য প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই পাড়বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে। পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাজিদ আলম জানান, ওখানে পাড়বাঁধের জন্য বোল্ডার ফেলা শুরু হয়েছে।