মানুষ কেন বিমুখ, কারণ খুঁজতে কোমর কষছে তৃণমূল

2026
ফাইল ছবি।

তপনকুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর: বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে গ্রাম থেকে শহরে এবার রাজ্য সরকার তথা শাসকদলের বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে আন্দোলনে নামছে বিজেপি। গ্রাম পঞ্চায়েতের অনিয়ম থেকে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা, আন্দোলনের তালিকা থেকে কোনও কিছুই বাদ যাচ্ছে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই তারা রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে। লোকসভার ফলাফলে উজ্জীবিত বিজেপি নেতৃত্বের আশা, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সামনের বিধানসভা ভোটেও ফসল ঘরে তোলা যাবে। এদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনীতিতে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেসও। ইতিমধ্যে বুথস্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছে তারা।

রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল নির্বাচনে পরাজয়ে পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেন। সেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে জেলা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে জয় তণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। দেবশ্রী চৌধুরী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর বিজেপিকে কালিয়াগঞ্জ উপনির্বাচনে হার হজম করতে হয়েছে। যদিও বিষয়টিতে আমল দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, জেলায় আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন মন্ত্রী। এছাড়া জেলার নয়টি বিধানসভার আসনকেই পাখির চোখ করেছেন বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। দিলীপ ঘোষ জেলাকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। করোনাকালের মধ্যেই ব্লক ও শহর সভাপতিরা শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র সংগঠনের ভিত মজবুত করতে কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন।

- Advertisement -

উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত, চারটি পুরসভা, নয়টি পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে। চারটি পুরসভার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে একটি। তারমধ্যে ইসলামপুর, কালিয়াগঞ্জ ও ডালখোলা পুরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেখানে প্রশাসকমণ্ডলী পুরসভা পরিচালনা করছে। তিন পুরসভার প্রশাসকের পদে রয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যানরা। ৯৮টির মধ্যে মাত্র ২০টি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে। নয়টি পঞ্চায়েত সমিতিও শাসকদল পরিচালিত। ২৬টি জেলা পরিষদ আসনে গত পঞ্চায়ে নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ২৫টি ও  একটি আসন দখল করে বিজেপি।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি রেকর্ড সংখ্যক পঞ্চায়েতে জয়ী হতে না পারলেও সর্বত্র কমবেশি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও লোকসভা ভোটে সব হিসেবনিকেশ পালটে দিয়ে বিজেপি প্রার্থী প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। ইসলামপুর, ডালখোলা, কালিয়াগঞ্জ পুরসভা এলাকায় শাসকদলের ভরাডুবি হয়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের ভোটাররাও বিজেপিকে ঢেলে ভোট দেওয়ায় লোকসভা ভোটে অধিকাংশ মানুষের সমর্থন নিজেদের পক্ষে টানতে সমর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। তাই আপাতত উত্তর দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ যা রয়েছে, তাতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই যে টক্কর হবে তা স্পষ্ট। পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা, জেলা পরিষদ সর্বত্র ক্ষমতা নিজেদের দখলে থাকা সত্ত্বেও কেন এমন বিপর্যয় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি পিকের টিমও জেলা চষে বেড়াচ্ছে। দলের খামতিগুলি নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরছে।

দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, কিছু মানুষ কেন আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন, সেটা আমরা মানুষের কাছে গিয়ে শুনব, নিজেদের কোনও ভুলত্রুটি থাকলে শুধরে নেব। একইসঙ্গে দলের প্রতি যাঁরা অভিমান করে আছেন, তাঁদেরও দলের হয়ে লড়াই সংগ্রামে শামিল করা হবে। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন, ইন্দিরা আবাস, স্বচ্ছ ভারত মিশন, হাউজিং ফর অল প্রকল্প, ১০০ দিনের কাজ সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আমাদের সমর্থকদের বঞ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়মও হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসবের বিরুদ্ধে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ধারাবাহিক আন্দোলন হবে।