বামেদের কাছে টেনে বাজিমাতের চেষ্টা তৃণমূলের

92

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : বিজেপি নয়, আগামী পুরভোটে শিলিগুড়িতে সিপিএমকেই গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমে বামেদের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার যোগ দিয়েছেন শাসক শিবিরে। সূত্রের খবর, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরনিগমের সংযোজিত এলাকার একটি ওয়ার্ডের এক প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। আরও প্রায় তিনজন প্রাক্তন বাম কাউন্সিলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এর মধ্যে দুজন মহিলা কাউন্সিলার রয়েছেন বলে খবর।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের প্রথমদিকে রাজ্যের অন্য বেশ কয়েকটি পুরসভার পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসকমণ্ডলীর মাধ্যমে পুরনিগম চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা বারবার দ্রুত পুরভোটের দাবিও জানিয়েছে।

- Advertisement -

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে দাবি জানিয়ে এসেছেন বামেরা। এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়িতে আগামী পুরভোট নিয়ে দল গোছাতে ব্যস্ত সব পক্ষ। একদিকে দীর্ঘদিন শিলিগুড়িতে বোর্ডের দাযিত্বে থাকা সিপিএম যেমন বোর্ড ধরে রাখতে তৎপর, তেমনি তৃণমূল কংগ্রেসও প্রথমবার শিলিগুড়িতে পুরবোর্ড দখলের জন্য দল গোছাতে ব্যস্ত।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস যে এখনও বেশ কিছু ওয়ার্ডে সাংগঠনিক দিক দিয়ে দুর্বল তা বুঝতে বাকি নেই দলের শীর্ষনেতৃত্বের। সেই কারণে বামেদের দখলে থাকা ওয়ার্ডগুলির বাম কাউন্সিলারদের দিকে হাত বাড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বিধানসভা ভোটের আগে বামেদের দখলে থাকা ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার যথাক্রমে দুর্গা সিং ও পরিমল মিত্রকে দলে টেনেছে তৃণমূল। বিধানসভা ভোটের পর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন বাম কাউন্সিলার তথা ডেপুটি মেয়র রামভজন মাহাতো, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার কমল আগরওয়াল, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রীতিকণা বিশ্বাস তৃণমূল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তৃণমূলের বিশ্বাস, ওয়ার্ডের প্রাক্তন বাম কাউন্সিলাররা তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়ালে ওই ওয়ার্ডগুলি তৃণমূলের দখলে আসবে।

তাই পুরভোটের আগে আরও কয়েকজন বাম কাউন্সিলারকে নিজেদের দলে টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংযোজিত এলাকার এক বাম কাউন্সিলারের সঙ্গে তৃণমূলের কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, এক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূলে যোগ দেবেন তিনি। পাশাপাশি আরও তিনজন বাম কাউন্সিলারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে শাসকদল।

প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ওরা তো চেষ্টা করে যাচ্ছে দল ভাঙাতে। আমরাও তা রোখার চেষ্টা করছি। আমাদের অনেক কাউন্সিলার এসে আমাদের বলেও দিচ্ছেন। তবে এবার তৃতীয়বার ভোটে জিতে তৃণমূলের ঔদ্ধত্য বেড়েছে। ওদের মনে রাখতে হবে, আমাদেরও পতন কিন্তু ২৩৫ থেকেই শুরু হয়েছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ বলেন, আমরা আগামী পুরভোটকে সামনে রেখে অনেক পদক্ষেপই করছি। তবে তা ক্রমশ প্রকাশ্য। অনেকেই আমাদের দলে আসার জন্য যোগাযোগ করছেন।