আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে তৃণমূলের ভোটের প্রস্তুতি

472

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বিজয়া সম্মিলনীর মাধ্যমে এই প্রস্তুতি নিল শাসক দল। এদিন ব্লকের সাহেবপোঁতায় ব্লক স্তরের বিজয়ার শুভেচ্ছা বার্তা কর্মসূচিতে বুথ, অঞ্চল ও শাখা সংগঠনের নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের নিবিড়ভাবে জনসংযোগ বাড়ানোর বার্তা দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। তবে তৃণমূলের ঢাকঢোল পিটিয়ে ভোটের প্রস্তুতির এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি বিজেপি।

গত লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনে বিজেপির থেকে প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে আর কয়েক মাস পরই ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচন। আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এই বিধানসভা আসনের মধ্যে পড়ে। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদগুলি তৃণমূলের দখলে থাকলেও গত লোকসভা নির্বাচনে দল কেন এই আসনে পিছিয়ে যায় তা নিয়ে দফায় দফায় বিশ্লেষণ চলছে। পিকের নির্দেশে ধারাবাহিক দলীয় কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন দলের নেতারা। তবে পুজোর জন্য কিছুদিন দলের কর্মসূচি বন্ধ ছিল। তাই পুজো মিটতেই এদিন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মনোরঞ্জন দে-র ডাকে ব্লক স্তরের বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয় সাহেবপোঁতায়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের ১৮৪ জন বুথ সভাপতি, অঞ্চল সভাপতি, অঞ্চল কনভেনার, শাখা সংগঠনের সভাপতি, পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, জেলা পরিষদের সদস্য সহ বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, রাজ্য নেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ। গোটা ব্লকের বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্মকর্তাদেরকেও এদিনের কর্মসূচিতে শামিল করা হয়। সূত্রের খবর, এদিন ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৪টি পুজো কমিটিকে মানপত্র দিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা জানানো হয়।

- Advertisement -

এই কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা দলের ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, ‘এদিন বুথ, অঞ্চল ও ব্লক স্তরের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধিদের বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিবিড়ভাবে জনসংযোগ করার বার্তা দেওয়া হয়। বিজেপির ভন্ডামি সাধারণ মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাই মানুষ এখন তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন।’ দলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণ এখন কাজ করবে না। পাঁচ বছরে আমার এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে।’ তাঁর দাবি, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি নয়, তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই হবে বাম, কংগ্রেসের। তবে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, ‘এসব লোক দেখানো সম্মেলন করে তৃণমূলের কোনও লাভ নেই। এই আসনে আগামী নির্বাচনে আমরা তৃণমূলের থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতব। এজন্য আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে।’