ফালাকাটা দখলে রাখতে হেঁশেলে গল্পে মশগুল তৃণমূলের মহিলারা

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : ফালাকাটা উপনির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে পড়ল তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। এই কেন্দ্রের বিশেষ পর্যবেক্ষক মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু পুরুষ নেতা-কর্মীদের পক্ষে বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা সহজ নয়। এজন্য দলের নেত্রী ও মহিলা কর্মীদের বুথ, গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লকস্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের অভাব-অভিযোগ শুনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য ফালাকাটায় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের উদ্যোগে যোগাযোগে আমরা নামে নতুন এক কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। যদিও বিজেপি তৃণমূলের এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

করোনা পরিস্থিতিতেও ফালাকাটায় উপনির্বাচনের জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির থেকে ২৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকায় এই উপনির্বাচনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। গত বছর ৩১ অক্টোবর বিধায়ক অনিল অধিকারী প্রয়াত হন। করোনার জেরে গত এপ্রিল মাসে এই উপনির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করেছে। তাই বিজেপি সেভাবে মাঠে না নামলেও মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ফালাকাটায় এসে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনকেও ভালোভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে শাসকদলের ঝিমিয়ে থাকা নেতা-কর্মীরাও চাঙ্গা হতে শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর। এ নিয়ে ফালাকাটায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে দলের মহিলা সংগঠন।

- Advertisement -

সেখানে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী দীপিকা রায়, ব্লক সভানেত্রী সুতপা ভদ্র, দলের ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন সহ সংগঠনের অঞ্চল সভানেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নির্দেশে ওই বৈঠকে যোগাযোগে আমরা কর্মসূচির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে মহিলাদের অভাব-অভিযোগ, দাবি হিসেবে কোন বিষয়গুলি প্রাধান্য পেতে পারে এবং সেগুলি মিটিয়ে কীভাবে সংগঠনের ভিত মজবুত করা যায় তা নিয়ে বৈঠকে ছক তৈরি করা হয়। ২৬৬টি বুথের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত। দলের ব্লক সভানেত্রী সুতপা ভদ্র বলেন, ধাপে ধাপে প্রতিটি অঞ্চল ও বুথে এই কর্মসূচি হবে। সংগঠনের নেত্রীরা মনে করছেন, এভাবে মহিলাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।

দলের জেলা সভানেত্রী দীপিকা রায় বলেন, এখন সব নির্বাচনে পঞ্চাশ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। পুরুষ নেতা-কর্মীরা যেটা পারবেন না, আমরা তা পারব। এ ব্যাপারে বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা পালটা বলেন, মহিলারা কেন্দ্রীয় সরকারের উজ্জ্বলা প্রকল্পে গ্যাস পেয়েছেন। জনধন প্রকল্পে টাকা পেয়েছেন। সেখানে রাজ্য সরকার মহিলাদের কী দিয়েছে? তৃণমূলের মহিলা সংগঠন এসবের জবাব দিতে পারবে না। তাঁর দাবি, বিজেপির মহিলা সংগঠনও ফালাকাটায় জনসম্পর্ক অভিযান চালাচ্ছে।