বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরসা নারায়ণী ব্যাটালিয়ন

412

গৌরহরি দাস ও সপ্তর্ষি সরকার, কোচবিহার ও ধূপগুড়ি : নির্বাচনে মিমের গুরুত্ব ইতিমধ্যেই বিহার ভোটের ফলাফলে পরিষ্কার। এই ভোটে মিম পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মিম এই ভোটে দাঁড়ানোর জেরেই বিজেপি বহু আসনে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে টেক্কা দিয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হলেও জয় পেয়েছে। সোমবার মিম-এর বাংলার প্রধান আনোয়ার পাশা একগুচ্ছ নেতাকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখান। মিম অবশ্য এত সহজে হাল ছাড়ার নয়। মিম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাংলায় প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরের শেষে তিনি মালদায় যাবেন। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মিম উত্তরবঙ্গের তিন-চারটি জেলায় দাঁড়াতে পারে। এই জেলাগুলির অন্যতম কোচবিহার। একেই গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার তৃণমূল, তার উপর জেলায় বিজেপি যেভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং হিন্দু ভোট যেভাবে বিজেপির দিকে যেতে শুরু করেছে তাতে বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে জয় পেতে তৃণমূলকে অনেকটাই মুসলিম ভোটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। কিন্তু মিম কোচবিহারে দাঁড়ালে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হলে সমস্যা হতে পারে। পরিস্থিতি নিজেদের দিকে আনতে তৃণমূল কংগ্রেস নস্যশেখ সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে। অন্যদিকে, বিজেপিও বসে নেই। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারায়ণী রেজিমেন্ট গড়তে কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক সংসদে দাবি জানিয়েছেন। এনিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা সেনাবাহিনীর তরফে এখনও কিছু না জানানো হলেও ১১ নভেম্বর নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশে নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গড়ার কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী রাজবংশী আবেগ ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন। যদিও প্রাথমিক ঘোষণার পরও এনিয়ে এখনও বিস্তারিত বিভাগীয় নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। ফলে কতজন নিয়ে এই ব্যাটালিয়ন গঠিত হবে বা শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ থেকেই এই ব্যাটালিয়নে নিয়োগ হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে বিস্তারিত সরকারি ঘোষণার আগেই এনিয়ে রাজবংশী এবং নস্যশেখ যুব সংগঠনগুলি ময়দানে নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই নস্যশেখ সংগঠনগুলির তরফে নারায়ণী ব্যাটালিয়নে নস্যশেখদের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়। রাজবংশীদের পাশাপাশি নস্যশেখরাও উত্তরবাংলার ভূমিপুত্র এবং কোচবিহার রাজার সেনাবাহিনীতে কোচ রাজবংশীদের পাশাপাশি নস্যশেখদেরও উপস্থিতি ছিল বলে দাবি জানানো হয়েছে।

নস্যশেখ যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রাব্বানি আলম বলেন, নস্যশেখ সম্প্রদায়ভুক্ত হেদায়েত আলি মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের নারায়ণী সেনায় সেনাপতি ছিলেন। তাঁর মতো হাজারো নস্যশেখ সেনার বীরত্বেই কোচবিহার রাজা ভুটান সহ একাধিক সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করেন। ফলে নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গঠিত হলে আমাদের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ দিতেই হবে। এই দাবিতে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কোনওভাবে আমাদের বঞ্চিত করা হলে আমরা আইন ও আন্দোলন দুই পথেই হাঁটব। রাজবংশী যুব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক রঞ্জিত বর্মন বলেন, রাজবংশী মানুষের দাবিকে সম্মান জানিয়ে এই ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন এই দাবিতে সোচ্চার বংশীবদন বর্মনকে অভিনন্দন। তবে, এই ব্যাটালিয়ন গড়া নিয়ে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করছেন। তাঁদের আমরা ধিক্কার জানাই। প্রয়োজনে আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামব। কেউ কেউ ওই ব্যাটালিয়নে সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছে। বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক। এই ব্যাটালিয়নে সংবিধান স্বীকৃত নিয়মে উত্তরবাংলার সমস্ত ধর্ম-বর্ণ-জাতির যুবকরা যাতে শামিল হন সেজন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। আমরা সবাই মিলে মাটির ভূমিপুত্র হিসেবে এই ব্যাটালিয়নকে শক্তিশালী করে তুলতে চাই।

- Advertisement -

নস্যশেখ উন্নয়ন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা তথা তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবি আজাদ বলেন, কিছু কিছু জায়গায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনেক উন্নয়ন হবে বলে তাঁদের বোঝানো হচ্ছে। সংখ্যালঘুরা যাতে সেই ফাঁদে পা না দেন তা দেখতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, নস্যশেখদের নির্দিষ্ট কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি আমরা যথাস্থানে পাঠিয়ে দেব। তবে মিমকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ বলে পার্থপ্রতিম জানান।