মনীষীদের স্মরণ করে বছর শুরু করবে তৃণমূল

কলকাতা : বাংলার মনীষী ও বাঙালিয়ানা এখন রাজনৈতিক প্রচারে স্থান পাচ্ছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার কমিটি তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জন্মদিনে রাজ্যে এসেছিলেন। ঘুরে গিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে গড়া শান্তিনিকেতন। আবার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে বাংলায় আসার কর্মসূচি নিচ্ছেন।

পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। বুধবার একগুচ্ছ দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২০২১ সালের প্রথম সাতদিন বিশিষ্টদের সম্মান জানানো হবে দলের তরফে। স্মরণের তালিকায় আছেন বিবেকানন্দ, মহাত্মা গান্ধি, বিআর আম্বেদকর প্রমুখ। ১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করা হবে। ২৬ জানুয়ারি জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করবে। এই উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের সাহায্য করার পাশাপাশি হাসপাতালে ফল ও বস্ত্র বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে। ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে শহিদ দিবস কর্মসূচি হবে বলে পার্থ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রের অপশাসনের বিরুদ্ধে এদিন কলকাতার গোলপার্ক থেকে হাজরা পর্যন্ত পদযায়াত্রার করে তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস। আওয়াজ তুলেছে জনতা, বঙ্গে আবার মমতা স্লোগান বুকে ঝুলিয়ে তৃণমূল মহিলার রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল হয়। চন্দ্রিমা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি, এ রাজ্যের মনীষীদের অসম্মান করে যারা রাজনীতি করতে এসেছে, তাদের এ রাজ্যে কোনও জায়গা হবে না। বাংলার মানুষ তাদের এ রাজ্য থেকে ঝেঁটিয়ে তাড়াবে।

- Advertisement -

ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বাংলায় গরিবের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ নিয়ে কটাক্ষ। বুধবারও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। তৃণমূলের মহাসচিব বলেন, প্রথমে ওঁরা আদিবাসীর বাড়ি গিয়েছিলেন। নাটক করলেন। বাউলের ঘরে গিয়ে নাটক করলেন। ওঁর মন কি বাত কেউ শুনল না। মানুষের অগাধ আস্থা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে ওপরে। তাই লোকের বাড়ি গিয়ে ভাত, ডাল খেয়ে বাঙালি সংস্কৃতি বদলানো যাবে না। মানুষের কথা না শুনে নিজেদের কথা বলা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। বৃহস্পতিবার জাতীয় কৃষক দিবস। এই উপলক্ষ্যে এদিন পার্থ বলেন, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে রাজ্যে কৃষকদের আয় তিনগুণ হয়েছে। কিষান ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা আড়াইগুণ হয়েছে। রাজ্যের কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ৭৩ লক্ষ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। বাংলা টানা ৬ বার কৃষি পুরস্কার পেয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে বহু নেতা-কর্মীর যোগদান নিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ঘর নয়, আসলে বিজেপির ঘরই ফাঁকা। তাই জঞ্জাল দিয়ে ঘর ভরাচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী রাজ্যে বিজেপির উত্থানের জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছেন। আর, ব্রিটিশদের কায়দায় ধর্মের নামে দেশকে ভাগ করার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। মৌলালির কাছে রামলীলা ময়দানে এক সভায় অধীর বলেন, বিজেপিকে বাংলার মানুষ চিনতই না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সঙ্গে জোট করে তাদের হাত ধরে বাংলায় এনেছিলেন। গত ১০ বছরে তৃণমূল যেভাবে বাম ও কংগ্রেসের ওপর অত্যাচার করেছে, তাতে রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি দুর্বল হয়েছে। ফলে বিজেপির পথ প্রশস্ত হয়েছে। না চাইতেই উনি ইমাম ভাতা দিয়েছেন, মুসলিমরা গরিব হলেও ভিখিরি নন।