রাজ্যের উন্নয়নে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র কেন্দ্রের সার্টিফিকেট

160

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায় কলকাতা : উন্নয়নের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া সার্টিফিকেটই আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির সমালোচনার জবাব দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, জিএসটি আদায় ও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে রাজ্য দেশের মধ্যে প্রথমসারিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে তা উল্লেখও করা হয়েছে। নীলবাড়ি দখলের লক্ষ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা বাংলায় এসে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সোনার বাংলা গড়ার জন্য বিজেপি-কে একবারের জন্য সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। সেই সমালোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই রিপোর্টই এবার তুরুপের তাস করতে চলেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই সমস্ত রিপোর্ট বুকলেট আকারে ছাপিয়ে জেলায় জেলায় প্রচার চালানো হবে। করোনা পরবর্তীকালে উত্তরবঙ্গে ফিরে আসা শ্রমিকরা বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলেও কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরোজগার সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে শ্রমদিবস সৃষ্টিতে এই রাজ্য প্রথমসারিতে রয়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব জেলায় জেলায় ভোট প্রচারে পুরোদমে নেমে পড়বেন। তখন এই রিপোর্ট তুলে ধরে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের জবাব দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকার কাজ করেনি বলে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা এসে ভাষণ দিচ্ছেন। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টেই আমাদের সাফল্য উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে, বিজেপি নেতারা দ্বিচারিতা করছেন। আমরা মনে করি, গত ১০ বছরে এই রাজ্যে যা কাজ হয়েছে, তা বিগত দিনে হয়নি। অন্য রাজ্যেও এভাবে কাজ হয়নি। আমরা এবার ভোটে কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টই মানুষের সামনে তুলে ধরব। এতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, মানুষকে বিজেপি বিভ্রান্ত করছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, এসব তৃণমূলের মনগড়া রিপোর্ট। রাজ্যে কাটমানির সরকার চলছে। বাংলার মানুষ তা বুঝতে পারছেন। তাই এবার আর পালানোর পথ পাবে না তৃণমূল। মানুষ তৃণমূলের অনেক ধোঁকাবাজি দেখেছেন। আর মানবেন না। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় তৃণমূলের হাল খতিয়ে দেখতে প্রশান্ত কিশোরের টিম নিয়মিত সমীক্ষা চালাচ্ছে। দলের ফাঁকফোকর সম্পর্কিত রিপোর্ট দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছে জমা পড়ছে। সেইমতো তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গত ১০ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান সামনে রেখেই এবার ভোটে লড়াই করা হবে। অন্যান্যবারের ভোটের চেয়ে এবারের ভোট যে অন্যরকম তা তৃণমূল নেতারাও স্বীকার করে নিয়েছেন। এবার লড়াই যে যথেষ্ট কঠিন, তাও তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তাই নেগেটিভ প্রচারের চেয়ে উন্নয়নের খতিয়ানকেই ঢাল হিসেবে তৃণমূল ব্যবহার করতে চাইছে।

- Advertisement -

ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত, পুর ও নগরোন্নয়ন, সেচ ও জলপথ, পূর্ত, স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে গত পাঁচ বছরে ও ১০ বছরে কী কী কাজ হয়েছে তা নিয়ে দুটি পৃথক রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের হিসাব নিয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টও জোগাড় করা হয়েছে। ওই রিপোর্টগুলিতে রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। এবার সেটিই বুকলেট আকারে ছাপিয়ে জেলায় জেলায় প্রচার চালানো হবে। প্রথম পর্যায়ে এক কোটি এই রকম বুকলেট ছাপানো হচ্ছে। তা বিভিন্ন জেলায় বিলি করা হবে। বুথস্তর পর্যন্ত ভোটাররা যাতে রাজ্যের কাজকর্ম সম্পর্কে জানতে পারেন, তার জন্য ব্লক নেতৃত্বকে তত্পর হতে ইতিমধ্যেই দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসি নির্দেশ দিয়েছেন। কোন ব্লকে প্রচারে ঘাটতি রয়েছে, তা পিকের টিম প্রতি মুহূর্তে দলের রাজ্য নেতৃত্বকে রিপোর্ট দিচ্ছে। সেইমতো ওই ব্লকগুলিতে নেতৃত্বে বদল আনা হচ্ছে। তৃণমূলের অঙ্ক, ভোটের দিন গণনার আগে পর্যন্ত প্রতিটি বুথে ভোটারদের কাছে এই রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হবে। মানুষ এই রিপোর্ট কতটা গ্রহণ করছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।