৬ বছর খোঁজই নেয়নি দল, আক্ষেপ দুর্ঘটনায় জখম সায়নের

479

দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ: ৬ বছর আগে ২১ জুলাই শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় গিয়েছিলেন রায়গঞ্জের মহারাজার বাসিন্দা সায়ন সরকার। কর্মসূচি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে কলকাতার চিত্পুর স্টেশনে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন। দুই পায়ে এতটাই আঘাত লেগেছিল য়ে, তিনি প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েন। রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিত্সা করান। এমনকি বিন্দোলে এক কবিরাজের কাছেও দেখান। তবে পায়ে যন্ত্রণা কমেনি। পায়ে আঘাতের জায়গায় জমে থাকা রক্ত থেকে অসহ্য যন্ত্রণা হয় সায়নবাবুর। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, ভ্যান গাড়িতে ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রিও বন্ধ হয়ে যায়। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে চরম বিপদে পড়েন সায়নবাবু। সায়নবাবুর আক্ষেপ, দলের কাজে যোগ দিতে দিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেও আজ পর্যন্ত দলের কেউ খোঁজ নেননি। সায়নবাবুর অভিযোগ, একাধিকবার দলের নেতাদের কাছে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। একবারের জন্যেও কেউ এসে খোঁজ নেননি, সাহায্য তো দূরের কথা। তিনি বলেন, অঞ্চল থেকে জেলা নেতা সকলের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউই আমার দিকে ঘুরেও তাকাননি।  দিদির আদর্শ আজও বিশ্বাস করি। বাড়ির কাছাকাছি দলের কোনো কর্মসূচির খবর পেলে কষ্ট করে হলেও সেখানে পৌঁছে যাই। কিন্তু নেতারা আমার কথা ভাবেন না। সায়নবাবু বলেন  দীর্ঘ ৬ বছর ধরে অসুস্থ। কাজ করতে পারছি না। দিদির কাছে আবেদন, দিদি আমার মতো একনিষ্ঠ কর্মীর দিকে একটু তাকান। খুব কষ্টের মধ্যে আছি।

পায়ে য়ন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সায়নবাবু বিছানা থেকে নেমেই দৌড়ে যেতেন বাড়ির পাশের পানাপুকুরে। জলে নেমে একটু লাফালাফি করার পরেই পায়ে ক্ষতস্থান আঁকড়ে ধরত জোঁকের দল। দশ থেকে পনেরো মিনিট রক্তচোষা জোঁকের দাপাদাপির পর  যন্ত্রণা কমত কিছুটা হলেও। এরপর বাড়ি ফিরে গিয়ে মশলামুড়ির ভ্যান গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন তিনি। তবে তাঁর এই যন্ত্রণার কথা জানতে পেরে পাশে এসে দাঁড়ায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাঁরা সায়নবাবুকে মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সা করান। চিকিত্সক তাঁকে পুরোপুরি জলে নামতে নিষেধ করে দিয়েছেন। চিকিত্সা চলছে তাঁর। কিন্তু কবে সুস্থ হবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।  স্বামীর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন স্ত্রী বুলবুলি সরকার। তিনি বলেন, ওর কষ্ট চোখে দেখা যায় না। দলের কেউ আজ পাশে নেই । তবুও দল ছাড়েননি। কীভাবে সংসার চলবে, বুঝতে পারছি না। সায়নবাবু জানান,দল য়খন ক্ষমতায় ছিল না, তখনও দল করতাম। তাই দল ছাড়তে পারব না। নেতৃত্ব যদি আমার দিকে তাকায়, তাহলে দুবেলা দুমুঠো ভাতের সংস্থান হবে। তা না হলে হয়তো পরিবারটা শেষ হয়ে যাবে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পূর্ণেন্দু দে বলেন,সায়ন য়ে আমাদের দলের কর্মী, সেটাই জানা ছিল না। অঞ্চল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিচ্ছি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওযাল বলেন, সেই সময় দলের ব্লকের যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর উচিত ছিল আহত কর্মীর পাশে দাঁড়ানো। রায়গঞ্জের ব্লক সভাপতি পূর্ণেন্দু দেকে সায়নবাবুর চিকিত্সার বিষয়টি দেখতে বলছি।