বাসন্তীতে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন ১

522

কলকাতা: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন বাসন্তী। বুধবার সকালে এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী। মৃতের নাম আমির আলি সরদার।

এদিন সকালে বাজার করতে যাওয়ার সময় ফুলমালঞ্চপুরের ১১ নম্বর নস্কর পাড়ার কাছে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। জানা গিয়েছে, ঘটনায় অভিযুক্তরা সকলেই এলাকায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী বলে পরিচিত।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েকদিন ধরেই সেখানে আদি তৃণমূলীদের সঙ্গে নব তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মীদের গণ্ডগোল চলছিল। মাঝে দু’পক্ষের মধ্যে বোমাবাজিও হয়। তার জেরেই এদিন এই ঘটনা ঘটে জানিয়েছেন তাঁরা। এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ৬ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এলাকার চার জায়গায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, আমপানের দরুণ সমগ্র এলাকা যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাতেও কিন্তু দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই বন্ধ হয়নি। এদিন জেলা পুলিশ সুপার রশিদ মনির খান সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসাররা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই গণ্ডগোলের সূত্রপাত ঘটে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় যারা বরাবর তৃণমূল কংগ্রেস করে আসছিলেন তাঁদের কাছ থেকে নব তৃণমূলীরা এলাকা দখলের লড়াই শুরু করেন। ওই এলাকার পুরানো তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত বাসন্তীর বিধায়ক গোবিন্দ নস্কর ও গোসাবার বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর রাই এলাকায় দলের নেতৃত্ব দিতেন। পরে ক্যানিং পূর্বের সিপিএম বিধায়ক সওকত মোল্লা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলের ঢোকার পর থেকে গণ্ডগোলের সূত্রপাত ঘটে। এরইমধ্যে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলের শামিল হওয়া রেজ্জাক মোল্লার কিছু সদস্য ও সওকত মোল্লার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এলাকা দখলের লড়াইয়ে নেমে পড়েন। সওকত মোল্লাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতির পদে নিয়োগ করা হয়। অভিযোগ, সভাপতি পদে আসীন হয়েই সওকত মোল্লা তাঁর পুরানো দল থেকে আসা সহকর্মীদের মাধ্যমে এলাকা দখলের লড়াই শুরু করে দেন। সিপিএম থেকে যাঁরা তৃণমূলে শামিল হন তাঁরা সবাই তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নামে সংগঠন শুরু করে দেন। আর সেই থেকে শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ।

সংঘর্ষের দরুন বিগত কয়েক বছরে কম করে ১৫ জনের প্রাণ গিয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও অন্য নেতারা বারবার বিবাদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেও ওই বিরোধের মীমাংসা করে উঠতে পারেননি। বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনা বাসন্তী, ক্যানিং পূর্ব, গোসাবা ও ভাঙ্গরে আদি তৃণমূলের সঙ্গে নব তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে। দলের উচ্চপদস্থ নেতারা এমনকি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও বারবার ওই সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।