টনক নড়ল তৃণমূলের, বিজেপি সাহায্য করতেই, লকডাউনে আত্মঘাতীর বাড়িতে পৌঁছলেন নেতারা

399

ফাঁসিদেওয়া, ১২ মেঃ তৃণমূল কংগ্রেস মরা মানুষকে নিয়েও রাজনীতি করতে ছাড়ে না। মঙ্গলবার লকডাউনে আত্মঘাতী দিনমজুর ও কৃষকের বাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা যেতেই, কটাক্ষ করলেন বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়াল। লকডাউনে ফুলকপি চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাননি ফাঁসিদেওয়ার দেমধাখাড়ির কৃষক নিতাই বিশ্বাস। ঋণে জর্জরিত হয়ে ৩০ এপ্রিল আত্মঘাতী হয়েছিলেন নিতাই। অন্যদিকে, ফাঁসিদেওয়ার হেরাগছের বাসিন্দা বিমল মুন্ডা পেশায় দিনমজুর লকডাউনে কাজ হারিয়ে অবসাদগ্রস্থ হয়ে চলতি মাসের ৪ তারিখ আত্মঘাতী হন। এরপর কেটে গিয়েছে বিশাল একটা সময়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওই দুই পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করলেও, আসেননি কোনও নেতা মন্ত্রী। এমনকি নিতাই বিশ্বাসের বাড়ির কয়েকশো মিটারের দূরেই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ফাঁসিদেওয়া সাংগঠনিক ১ নম্বর ব্লক সভাপতি মহম্মদ আইনুল হকের বাড়ি। অভিযোগ, এরপর প্রায় দশ দিনের বেশী কেটে গিয়েছে, কিন্তু তৃণমূলের কোনও নেতা সেখানে আসেননি। এরপর চলতি মাসের ১১ তারিখ দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিষ্ট বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালের হাত দিয়ে দুই পরিবারকেই নগদ ২৫ হাজার টাকা করে সাহায্য হিসেবে তুলে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তা দেখেই তৃণমূল নেতাদের টনক নড়েছে বলে দাবি করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। প্রবীণ আগরওয়াল জানিয়েছেন, তৃণমূল নেতা মৃত নিতাই বিশ্বাসের প্রতিবেশী হলেও, সামান্য সহানুভূতি তাঁদের মধ্যে ছিল না। বিজেপি কর্মীরা সাহায্য করতে যেতেই, পরদিনই তড়িঘড়ি তাঁরা চলে গেলেন। তৃণমূল মৃত মানুষকে নিয়েও রাজনীতি করছে। তিনি আরও জানান, তৃণমূল সবসময় বিজেপি কর্মীদের অনুসরণ করেন, এতে নতুনত্ব কিছু নেই। অন্যদিকে, কাজল ঘোষ জানিয়েছেন কৃষক এবং দিনমজুর মৃত্যুর খবর সকালে পেতেই, তিনি ছুঁটে এসে ২ পরিবারকে ১১ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করেছেন। খাবার সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। আগে জানলে, আগেই আসতেন। তবে, আইনুল বাবুর কর্মকান্ড নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামীতে নিতাই বিশ্বাসের পরিবারকে সবরকম সরকারি সাহায্যের চেষ্টা করবেন তাঁরা। এদিন কাজল ঘোষের সঙ্গে আইনুল হক, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদস্য ছোটন কিস্কু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।অপরদিকে, বিজেপিকে পালটা কটাক্ষ করে মহম্মদ আইনুল হক জানিয়েছেন, বিজেপি সব বিষয়ে রাজনীতি করে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। সেই খাতিরেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি সবসময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গেই থাকেন বলে তিনি দাবি করেন।