সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের কথা জানালেন শতাব্দী রায়

236

কলকাতা : বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভ জানালেন বীরভূমের দুবারের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শতাব্দী রায়। টলিউড অভিনেত্রী নিজের পেজ থেকে কিছু না বললেও শতাব্দী রায় ফ্যান ক্লাব পেজ থেকে বৃহস্পতিবার বীরভূমবাসীদের প্রতি বার্তা দেওয়া হয়। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ইদানীং অনেকে প্রশ্ন করছেন, কেন আমাকে বহু কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না, আমি তাঁদের বলছি, আমি সর্বত্র যেতে চাই। আপনাদের সঙ্গে থাকতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু মনে হয়, কেউ কেউ চায় না, আমি আপনাদের কাছে যাই। বহু কর্মসূচির খবর আমাকে দেওয়াই হয় না। না জানলে আমি যাব কী করে? এই নিয়ে আমারও কষ্ট হয়। প্রশ্ন উঠেছে, জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বে পরপর দুবার লোকসভার সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধেই কি শতাব্দী সুর চড়ালেন? কারণ, ওই জেলায় কেষ্ট মণ্ডলই সমস্ত কর্মসূচির মূলে থাকেন। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সাংসদকে এড়িয়ে কর্মসূচি ঘোষণা হওয়ার কথা কেন বললেন অভিনেত্রী। একই ক্ষোভ হুগলিতেও দেখা গিয়েছে। আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দারও সম্প্রতি প্রকাশ্যে অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব দলীয় কর্মসূচিতে সাংসদ সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ককে ডাকেন না। হাওড়া জেলাতে অরূপ রায়ের সঙ্গে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্লাদের বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে। বনমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ফেসবুকে বলেছেন, ১৬ জানুয়ারি বিকাল ৪টেয় যা বলার বলব। একই সুরে এদিন শতাব্দী রায়ে ফ্যান ক্লাবের পেজ থেকে বলা হয়, গত ১০ বছরে আমি বাড়ির থেকে বেশি সময় আপনাদের সঙ্গে কাটিয়েছি। তাই নতুন বছরে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছি, যাতে আপনাদের সঙ্গে পুরোপুরি থাকতে পারি। আশা করি ভবিষ্যতেও আপনাদের ভালোবাসা পাব। তাঁর বক্তব্য, সাংসদ হয়েছেন পরে, তার অনেক আগে থেকেই শুধু শতাব্দী রায় হিসেবে বাংলার মানুষ তাঁকে ভালোবেসে এসেছেন- আমিও আমার কর্তব্যপালনের চেষ্টা করে যাব। যদি কোনও সিদ্ধান্ত নিই, আগামী ১৬ জানুয়ারি শনিবার দুপুর ২টোয় জানাব। তাতেই প্রশ্ন উঠেছে, দেশে করোনার টিকা প্রয়োগের দিনই তৃণমূলের একের পর এক বিক্ষুব্ধ সদস্য তাঁদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলছেন কেন। এই সম্পর্কে অবশ্য শতাব্দী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও তৃণমূলের মুখপাত্র বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় বলেন, শতাব্দী খুব ভালো মেয়ে ও সোজাসুজি কথা বলতে ভালোবাসে। তবে ওকে কোনও কর্মসূচিতে ডাকা হয়নি বলে জানি না। ডাকা উচিত ছিল। ও সমস্ত কর্মসূচিতেই যায়। কয়েকদিন আগে বীরভূমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতেও ছিল। দল নিশ্চয়ই ওর সঙ্গে কথা বলবে।