রাস্তা বাঁচাতে, অবৈধ বালি খাদান বন্ধ করল গ্রামবাসীরা

275

বর্ধমান: অবৈধ বালি খাদান ও ওভারলোড বালির গাড়ি চলাচল বন্ধ করল গ্রামবাসীরা। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জাড়গ্রাম পঞ্চায়েতের কোড়া গ্রামের ঘটনা। অবৈধ বালি খাদান বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের রাস্তা দিয়ে ওভারলোড বালির গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় আপাতত স্বস্তিতে কোড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

জ্যোতশ্রীরাম পঞ্চায়েতের এলাকায় প্রত্যন্ত গ্রাম কোড়া। এই গ্রামের সিংহভাগ মানুষই কৃষিজীবী। গ্রামবাসী সৌমিত্র ঘোষ জানান, এলাকার যাতায়াতের প্রধান রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়েছিল। তারজন্য এলাকার মানুষজনকে কম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি। বহু আবেদন-নিবেদনের পর পঞ্চায়েত ওই রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে মাস ৬-৭ আগে পঞ্চায়েত থেকে কোড়া গ্রামের দেড় কিমি রাস্তাটি পাকা পিচ রাস্তা করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে তৈরি করা হয় পাকা ড্রেন।

- Advertisement -

সৌমিত্র ঘোষ সহ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ , রাস্তা ভালো হয়ে যাওয়ার পর মাস ৫-৬ আগে কিছু অসাধু ব্যক্তি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মুণ্ডেশ্বরী নদীতে অবৈধ খাদান চালু করে বসে। সেই খাদান থেকে প্রতিদিন শয়ে শয়ে লরি ও ডাম্পারে বালি লোড করে গ্রামের রাস্তা দিয়ে অন্যত্র পাচার করে দেওয়া শুরু হয়। আর নিত্যদিন ওভারলোড বালির লরি ও ডাম্পার চলাচলের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই দেড় কিমি পিচ রাস্তা ফের বেহাল হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার পাশের ড্রেনও বালির লরি ভেঙে দিয়ে চলে গেছে। প্রতিনিয়ত বালির লরি চলাচলের কারণে ওই রাস্তা দিয়ে গ্রামের মানুষজনের যাতায়াত দুরহ হয়ে পড়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করে। যার বহি:প্রকাশ ঘটে শুক্রবার দুপুরে। ক্ষোভের আঁচ শনিবারও অব্যাহত থাকে কোড়া গ্রামে।

অবৈধ বালিখাদান থেকে বালি লোড করে শুক্রবার দুপুরে গ্রামের রাস্তা দিয়ে বালির যাতায়াত শুরু হতেই একযোগে পথে নামে গ্রামবাসীরা। তাঁরা ওভারলোড বালির লরি আটকে বিক্ষোভ দোখানো শুরু করতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে, জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সৌমত্র ঘোষ জানান, গ্রামের রাস্তাদিয়ে আর বালির লরি যাতায়াত করবে না বলে পুলিশ আশ্বাস দিলে তাঁরা লরি ছেড়ে দেন। শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে অবৈধ খাদান বন্ধ রয়েছে। অসাধু ব্যক্তিরা ফের যাতে ওই অবৈধ খাদান চালু করতে না পারে তারজন্য শনিবারও সারাদিন গ্রামবাসীরা তৎপরতা জারি রাখে। গ্রামবাসীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ফের অবৈধ বালিখাদান চালু হলে তাঁরা বৃহত্ত্বর আন্দলনে নামবেন।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা আরও বলেন, কোড়া গ্রাম সংলগ্ন মুইদিপুরেও একটি বালি খাদান রয়েছে। সেই খাদানেও প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টি লরিতে বালি লোড হচ্ছে। ওইসব ওভারলোড বালির লরি মুইদিপুর থেকে দামোদরের বাঁধের রাস্তা দিয়ে গিয়ে কানাড়িয়া সেতু পেরিয়ে হুগলীতে চলে যাচ্ছে। এরজন্য বর্ষার মরশুমে দামোদরের বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সেচ দপ্তর নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছে বলে অভিযোগ।

জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, “কোড়া এলাকায় মুণ্ডেশ্বরী নদীতে অবৈধ খাদান চালু করা হয়েছিল তা জানাছিল না। রাস্তা বাঁচানোর জন্য অবৈধ খাদান থেকে লোড হওয়া বালির লরি যাতায়াত বন্ধ করে গ্রামবাসীরা ভুল করেননি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। গ্রামবাসীর অভিযোগ সত্য হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ কর্তৃপক্ষেরও দৃষ্টি আকর্ষন করা হবে।”

অন্যদিকে লোয়ার দামোদর ইরিগেশন ডিভিশনের(সিঙ্গুর-হুগলী)সাব ডিভিশনাল অফিসার দীনের ঠিকাদার বলেন, ‘বাঁধের রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বেআইনি। বর্ষার মরশুমে বাঁধের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এতকিছুর পরেরও যদি বাঁধের রাস্তা দিয়ে কেউ ভারী যানবাহন নিয়ে যায় তবে তা বেআইনি কাজ। এই যাতায়াত বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’