করোনা রুখতে ২১ দিনের লকডাউন যথেষ্ট নয়: বিশেষজ্ঞের মতামত

406

নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের বিস্তার রুখতে সরকারি নির্দেশে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। চলবে ২১ দিন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এই ২১ দিন যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এক মাসের বেশি সময় পরেও করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে অনেকেরই। সুস্থ মানুষের শরীরে ধরা পড়েছে সংক্রমণ। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ তাঁদের থিওরি অনুযায়ী গবেষণা করতে গিয়ে বলেন, তিন ধাপে লকডাউন পালন করা হতে পারে। প্রথমে ২১ দিন, এরপর ২৮ দিন এবং শেষে ১৮ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকারী থাকবে। এর মাঝখানে পাঁচদিনের বিরতি দিয়ে লকডাউন কার্যকরী করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির গণিতজ্ঞ রণজয় অধিকারী এবং রাজেশ সিং জানান, ভারতের মতো দেশগুলির জন্য একটি লকডাউন মডেল তৈরি করে এমনই তথ্য জানা গিয়েছে। ভারতের মতো দেশে যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সামাজিক অনুষ্ঠান লেগেই থাকে এবং কর্মস্থলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বাড়ি থেকে শুরু করে অফিস ছাড়াও অন্যান্য জায়গাতেও দেশবাসীর বিচরণ লেগেই থাকে। সে ক্ষেত্রে কি ধরনের লকডাউন এই ভাইরাসের বিস্তার রুখতে কার্যকরী হবে তা গবেষণার মাধ্যমে জানা যাবে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে বিভিন্ন বয়সের জন্য বিভিন্ন রকম মডেল তৈরি করা হয়েছে।

- Advertisement -

গবেষকদের গবেষণা বলছে, ভারতে ভাইরাস সংক্রান্ত মহামারী ছড়ালে বছর ৬০ থেকে ৬৪ বছর বয়সের মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ছয় লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ৬৫ থেকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত চার লক্ষাধিক মানুষ মারা যাবেন। এই মডেল অনুযায়ী গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন যে সকল রোগের সংক্রমণ আটকাবে বলে মনে হলেও ১৫ মে-এর মধ্যে আবারও উপসর্গ দেখা দেবে এবং ছয় হাজারেরও বেশি আক্রান্ত হতে পারেন।

৪৯ দিনের লকডাউন সবথেকে ভাল কার্যকরী হবে। এই মডেল নিয়ে গবেষণা করার পর বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করছেন। এই ধরনের ভাইরাস অথবা রোগের ক্ষেত্রে লকডাউনের রও ভাইরাস এর সমস্যা থেকে যেতে পারে। বাইরের দেশগুলো থেকে লোকজনের অবাধ যাতায়াত শুরু হলে নতুন করে দেশ জুড়ে সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। লকডাউন হলো একটি উপায় যার মাধ্যমে কোন মহামারী বা ভাইরাসের বিস্তার আটকানো যেতে পারে।